ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

মরণোত্তর বিপিএম পদক পেলেন ঈশ্বরদী পুলিশের সুজাউল

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৯
নিহত সুজাউল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী নাসিমা।

‘কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না, জানতে চায় না আমরা কেমন আছি। দেশের জন্য কাজ করার এই কি প্রতিদান?’ হতাশার সুরে কথাগুলো বলছিলেন পাকশীতে দায়িত্বরত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া পুলিশের সহকারী শহর উপপরিদর্শক (এটিএসআই) সুজাউল ইসলামের স্ত্রী নাসিমা আক্তার।

কর্মদক্ষতা, সেবা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এবার মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) দেওয়া হয়েছে এটিএসআই সুজাউলকে। গত ২২ জুলাই সকালে রাজধানীর রাজারবাগে প্রধানমন্ত্রী এ পদক দেন। তবে পদক পাওয়ায় আনন্দের পাশাপাশি দীর্ঘশ্বাস আর হতাশা ঝরছে তাঁর স্ত্রী নাসিমার কণ্ঠে।

গত ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর রাতে ঈশ্বরদীর পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই সুজাউল ইসলামকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসলাম হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইসলাম হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাসেল ও জীবন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী সেতু, কোয়েল, মাসুমসহ আরো দুই যুবক সুজাউল হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। পুলিশ এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি নিহত এটিএসআই সুজাউল ইসলামের মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনসেট।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) সিদ্দিকুর রহমান জানান, পলাতক আসামিদের ধরতে ও নিহত সুজাউলের মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

নিহত সুজাউলের স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, ‘সুজাউলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস তাঁর সঙ্গী হয়েছে। গত চার মাসে পাবনা জেলা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আমাদের কোনো খোঁজ নেননি। সুজাউল ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুর পর আমরা কেমন আছি, কিভাবে আছি কেউ তা জানার দরকার মনে করেনি। অন্যান্য স্থানে নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক-দুই লাখ টাকা অনুদান পেলেও সুজাউলের মৃত্যুর সময় তাঁর লাশ দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। মামলাটি কোন পর্যায়ে রয়েছে তাও জানি না। দুই আসামিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলার তদন্ত ঠিকমতো হচ্ছে কি না তাও জানি না।’

স্বামীকে হারিয়ে নাসিমা আক্তার একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার নাসিমকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বগুড়া শহরের শেখপাড়ায় অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে পদক দিয়েছেন, তা আমার মৃত স্বামী ও আমাদের পরিবারের জন্য সম্মানজনক। স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচারে আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: