ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা: রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে আসামিপক্ষ

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯

ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত ৪৩ নেতাকর্মীর খালাস চেয়ে রোববার (২১ জুলাই) এ আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল দাখিল করেন।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এ ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে আটজনের পক্ষে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত ২৫ জনের মধ্যে ২২ জনের পক্ষে এবং ১০ বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত ১৩ জনের খালাস চেয়ে আপিল আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিদের খালাস চাওয়ার পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।

পাবনার রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, বিচারক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে খুশি করার উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শুধু অন্যায় করা হয়নি, অবিচার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আখতারুজ্জামান বলেন, আপিলে যে বক্তব্যই দিয়ে থাকুন না কেন, এ মামলায় যে সাক্ষী-সাবুদ হয়েছিল, এর ভিত্তিতে রায় ও সাজা হয়েছে। এখন আপিল বিভাগ দেখবেন আপিলে যেসব যুক্তি দিয়েছেন, সেগুলো সত্যিকার অর্থে গ্রহণ হবে কি না? কাজেই এখন অপেক্ষা করতে হবে আপিল বিভাগে শুনানির জন্য।

এর আগে মামলার ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) সব নথি রোববার (১৪ জুলাই) হাইকোর্টে পৌঁছে। পরে তা ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মো: সাইফুর রহমান।

এ ঘটনায় করা মামলার রায়ে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় ২৫ জনকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ ছাড়া ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩–এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী এ আদেশ দেন।

আলোচিত এ মামলায় রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া নয়জন আসামির প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া ২৫ জনের প্রত্যেককে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। আর ১৩ জনের প্রত্যেককে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কে এম আখতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মোকলেসুর রহমান ওরফে বাবলু, তাঁর ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, অপর ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান ওরফে পলাশ, বিএনপি নেতা মো. অটল, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি শ্যামল (নূরে মোস্তফা), স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে শাহীন ও বিএনপির সাবেক নেতা শামসুল আলম।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, আজাদ হোসেন ওরফে খোকন, ইসমাইল হোসেন ওরফে জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শামসুর রহমান, আনিসুর রহমান, আক্কেল আলী, মোহাম্মদ রবি, মোহাম্মদ এনাম, আবুল কাশেম, কালা বাবু, মো. মামুন, মামুন-২ , সেলিম হোসেন, মো. কল্লোল, তুহিন, শাহ আলম ওরফে লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, লাইজু, আব্দুল জব্বার, পলাশ, আবদুল হাকিম, আলমগীর হোসেন, এ কে এম ফিরোজুল ইসলাম ওরফে পায়েল ও আবুল কালাম।

১০ বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বিএনপি নেতা ও ঈশ্বরদী উপজেলার শাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, আজমল হোসেন, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ঈশ্বরদী পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা মো. রনো , মো. বরকত, চাঁদ আলী , এনামুল কবির, মো. মোক্তার, হাফিজুর রহমান মুকুল, হুমায়ন কবির ওরফে দুলাল , জামরুল, তুহিন বিন সিদ্দিক ও ফজলুর রহমান।

প্রসঙ্গত তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলে দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ট্রেনটি ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে প্রবেশের সময় শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। হামলার ঘটনায় শেখ হাসিনা ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ৫২ জনকে আসামি করে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: