ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা : পুলিশের ব্যর্থতায় উদ্বিগ্ন মুক্তিযোদ্ধারা

বার্তাকক্ষ | ঈশ্বরদীনিউজটোয়েন্টিফোর.নেট
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০১৯
বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিম। ফাইল ছবি

ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত রূপপুরের বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিমের (৬৭) হত্যা মামলাটি দীর্ঘ ৫ মাস পার হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পাকশী ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) শহিদুল ইসলাম।

তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকায় মামলার ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন নিহত সেলিমের সহযোদ্ধা পাকশী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড। এজন্য মামলাটি পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দিয়ে তদন্ত করে মামলার রহস্য উদঘাটন ও প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এবার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রাজশাহীর (ডিআইজি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এর আগে এই দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর করে স্মারকলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। ঈশ্বরদী পাকশীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী সদরুল হক সুধা (গ্রেজেট নং-৩৩০৮), সিদ্দিকুল ইসলাম (গেজেট নং-১০২৩), কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম (গ্রেজেট নং-৫৭৬), মাহবুবুর রহমান (গ্রেজেট নং-৭৬৮), আব্দুর রহিম (গ্রেজেট নং-১০৪৭), আব্দুর রশিদ (গ্রেজেট নং-৭৫১), আব্দুল মজিদ (গ্রেজেট নং-১১৮৭, এফএফ-৭৬০৪), মহিউদ্দিন বিশ্বাস (গ্রেজেট নং-১০৫২), সাহাদত হোসেন (গ্রেজেট নং-৫৭৫) ও ফজলুল হক (গ্রেজেট নং-৫৭৪) স্বাক্ষরীতি দাবি সংবলিত স্বারকলিপিটি ডিআইজি বরাবর পাঠিয়েছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত সেলিম নিজবাড়ি ও হাসপাতালে উপস্থিত সকলের সামনে বারবার বলেছিলেন, ‘আমাক ডাকি আনি মারি ফেললি, গুলি করলি!’ কিন্তু তাঁর এই কথার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে না। দেখা হচ্ছে না কে মোবাইলে রিং দিয়ে ডেকে ছিল।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সেলিম হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একদিন পর আবদুল্লাহ আল বাকি ওরফে আরজু বিশ্বাস (৪৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাঁর কাছে থাকা একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন উদ্ধার হয়। আরজু পাকশী ইউপির চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাসের ভাই এমদাদুল হক টুলু বিশ্বাসের ছেলে। সে উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন বলে জানা যায়।  সর্বশেষ আরজু বিস্ফোরক আইনের মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পরবর্তিতে চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাসের ছেলে রকি বিশ্বাস, রাজিব, লিখন ও রূপপুর মোড় সেলুনের নাপিত উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েক দফা থানায় এনে সেলিমের হত্যার কোনো রহস্য উৎঘাটন করতে পারেনি। পরে রকি, রাজিব ও লিখনকে অস্ত্র মামলায় এবং নাপিত উজ্জলকে মোটরসাইকেল চুরির মামলায় কোর্টে প্রেরণ করে। এর কয়েকমাস পর পুলিশ শচিন নামের এক যুবকে আটক করে। যার বিরুদ্ধে সেলিমকে প্রকাশ্যে ও ফেসবুকে নানা সময়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে।

এ সুত্র আরও বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনৈতিক কোনো কালো হাতের ইশারায় মামলার প্রকৃত আসামিদের খুঁজে বের না করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চেয়েছে। এতে সেলিম হত্যার মামলার ভবিষ্যত নিয়ে সবাই শঙ্কিত।

পাকশী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘সেলিম আমাদের সহযোদ্ধা। পুলিশের আচরণে আমরা অবাক। মামলাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ পুরোপুরি ব্যর্থ। আমরা চাই মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের প্রকৃত খুনিরা সবার সামনে আসুক। তারা গ্রেপ্তার হোক। মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তাই প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করতে মামলাটি পিবিআই স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে পুলিশের ডিআইজি বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।’

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, ‘নিহত মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের ছেলে তানভির রহমান তন্ময় অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দেয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলার তদন্ত কাজ চলছে। মাসব্যাপী তদন্ত চলাকালে মূল আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ‘তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।  প্রকৃত আসামি কারা তা প্রতিবেদন দেওয়ার পর সবাই দেখতে পাবে।’

প্রসঙ্গত- পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে ৯ টার দিকে রূপপুর বিবিসি বাজারের পশ্চিম পাড় স্কুলপাড়ার নিজবাড়ির দরজার সামনে গুলি করে আঁততায়ীরা। ওই দিনই ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে তিনি মারা যান।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: