ঢাকা সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে কর্মসৃজন প্রকল্পে দুর্নীতি

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

রূপপুর প্রকল্পের গ্রীণ সিটির ‘বালিশ’ কেলেংকারির পর এবার ঈশ্বরদীতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান-কর্মসূচী (কর্মসৃজন) প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা হরিলুটের উৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভূয়া শ্রমিকের তালিকা করে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা লোপাট করা হচ্ছে ঈশ্বরদী উপজেলার ৭ ইউনিয়নে। কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখিত প্রকল্পে কাজ না করে ভূয়া নামের তালিকা বানিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত দেখভাল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায়। লোপাটকৃত অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, ট্যাগ অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প দেখভালকারী কর্মকর্তার মাঝে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিয়ে সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে কার্যত তা ভেস্তে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঈশ্বরদীতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান-কর্মসূচী (কর্মসৃজন) প্রকল্পের ৪০ দিনের জন্য মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। সেই বরাদ্দ উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ৫টি করে প্রকল্প ভাগ করে দেয়া হয়। সেই প্রকল্প অনুযায়ী পাকশী ইউনিয়নের ৫ প্রকল্পে প্রতিদিন কাজ করার জন্য রাখা হয়েছে ১৯৮ জন শ্রমিক। যাদের দৈনিক হাজিরা ২০০ টাকা। সেখানে প্রতিটি প্রকল্পে একজন করে সরদার থাকবে। তার হাজিরা একটু বেশি। এরকম করে সাঁড়া ইউনিয়নের ৫ প্রকল্পের জন্য ১৭৫ জন শ্রমিক, মূলাডুলিতে ২৭৭ জন শ্রমিক, দাশুড়িয়া ২১৮ জন শ্রমিক, সলিমপুরে ২৯০ জন শ্রমিক, সাহাপুরে ২৬৩ জন শ্রমিক ও লক্ষীকুন্ডায় ২৯২ জন শ্রমিক।

সরেজমিন কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি প্রকল্পেই কাজ করছে অর্ধেকেরও কম শ্রমিক। বাকিদের কোন অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শ্রমিক জানান, পিআইসিরা তাদের কাছ থেকে আগেই সব সই-স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। তাছাড়া অনেকের নাম আছে অথচ তাদের কোনদিন প্রকল্প এলাকায় দেখা যায়নি। কয়েকজন পিআইসি ও ইউপি সদস্য জানান, বর্তমানে একজন শ্রমিকের মজুরি ৪০০ টাকা। সেখানে মাত্র ২০০ টাকায় কোন শ্রমিক কাজ করতে আসতে চাই না। এজন্য তালিকায় অনেক গড়মিল করতে হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিআইও স্যারসহ উপর মহল ‘ম্যানেজ’ থাকায় এ কাজটি সহজ হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব জানান, তাদের বরাদ্দের অংশ থেকে পিআইও কে দিতে হবে লাখ টাকা। ভূয়া তালিকা প্রসঙ্গে ওই সচিব বলেন, বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের লোকজনকে দিতে হয়।

এই প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এবিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না। আপনারা (সাংবাদিক) পিআইও’র সাথে কথা বলেন। কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

জানা গেছে, পাবনা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঈশ্বরদী উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সঠিক ভাবে সময় নিয়ে দায়িত্ব পালন না করার জন্যই এমন অনিয়ম হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

রোববার (২৬ মে) ঈশ্বরদী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী পিআইও মোঃ আব্দুল করিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ৪০ দিনের মধ্যে ২১ দিন কাজ হয়েছে। কিছু অভিযোগ থাকায় ২/৩ ইউনিয়নে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। বর্তমান সময়ে ৪/৫’শ টাকার কমে শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই ২০০ টাকার বিনিময়ে কেউ কাজ করতে আসতে চায় না। যারা আসে কিছু সময় কাজ করেই চলে যায়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: