ঢাকা রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে এক দিনে দুই লাশ উদ্ধার

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ মে, ২০১৯
নিহত আলতাব হোসেনের বাড়ির সামনে মায়ের আহাজারি। ছবিটি পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্কুলপাড়া চারাবটতলা এলাকা থেকে তোলা।

ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে শনিবার (২৫ মে) সকালে দুটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সাঁড়ার চারা বটতলা ও মুলাডুলি ইউনিয়নের চকনারিচা বাঘবাড়িয়া এলাকা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- চারা বটতলা এলাকার মৃত আবেদ আলীর ছেলে আলতাফ আলী (৫২) ও শহরের অরণকোলা এলাকার আলমগীর হোসেন নুনের ছেলে সাকিব হোসেন (২০)।

পুলিশের দাবি, আলতাফ আলীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা আছে। এ ছাড়া দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে চারা বটতলায় আহত হয়েছেন মতিয়ার রহমান নামের একজন গ্যারেজ পাহারাদার। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ঈশ্বরদীর এয়ারপোর্ট এলাকায় মৃত মোবারক চৌধুরীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে চারা বটতলা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির ভেতরের কক্ষে আলতাফ আলীর রক্তাক্ত লাশ দেখে এলাকাবাসী থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকীর নেতৃত্বে পুলিশ আলতাফের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আলতাফের মাথায় গুলির আঘাতে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। নির্মাণাধীন ওই বাড়ির পাশেই রয়েছে অটোরিকশার একটি গ্যারেজ। আহত মতিয়ার রহমান ওই গ্যারেজের পাহারাদার ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত আড়াইটার দিকে চিৎকার শুনে তাঁরা বাড়ির বাইরে এসে দেখেন মতিয়ার রহমান রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁর শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। এ সময় আহত মতিয়ার রহমান স্থানীয় দুজন বাসিন্দাকে জানায়, মুখ ঢাকা অবস্থায় চার ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালান।

এদিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে নিহতের বড় মেয়ে আশা খাতুন বলেন, কিছুদিন আগে এক মাদকবিক্রেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ওই ব্যক্তি কারাগার থেকে ফিরে এসে আমার বাবাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।

স্থানীয় রবিউল ইসলাম রবি নামে এক ব্যক্তি বলেন, আলতাব হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করতেন। কিছুদিন আগে জামিনে বের হয়ে রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।

অপরদিকে একই সময় মুলাডুলি ইউনিয়নের চকনারিচা বাঘবাড়িয়া এলাকা থেকে সাকিব হোসেন নামে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল ১০টার দিকে সাকিবের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পরিবারের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর সাকিব বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর ফিরে আসেননি। সকাল ৭টার দিকে সাকিবের নানার বাড়ির গ্রামের শামসুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি পুকুরপাড়ে সাকিবের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। সাকিবের ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন আছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, নিহত আলতাফ আলীর বিরুদ্ধে ১৩টির বেশি মাদক মামলা আছে। মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে আলতাফ খুন হতে পারেন। সাকিব প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এটি কোনো হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666