ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ সম্মেলন: ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতাকে গুলির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২১
গুলিবৃদ্ধ শাহিন হোসেন। গ্রাফিক ডিজাইন: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

বিরোধের জের ধরে ঈশ্বরদীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে শাহিন হোসেন ওরফে রুটি শাহিন (৩৮) নামে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহত হয়েছেন। তাঁকে ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসক। এখানেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তাঁকে আজ রোববার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর বুক, পিঠ ও হাতে গুলি লেগেছে।

ঘটনার পরপরই সেখান থেকে ৩টি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে আজ দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

গুলিবৃদ্ধ শাহিনের দেশের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। সে মোঃ আব্দুর রশিদ ও মৃত পারুল খাতুনের ছেলে। তবে কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন থেকে শহরের ইস্তা গোরস্থান পাড়ায় স্ত্রী ও এক শিশু নিয়ে বসবাস করছে। রাজনীতির পাশাপাশি সে আলহাজ্ব মোড় বাঁশহাটের খাজনা আদায়কারী হিসেবে কাজ করতেন।

শাহিন হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলির করার ঘটনায় ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রোববার দুপুর ১২টায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

যুবলীগ নেতা শাহিন হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনায় শহরের ষ্টেশন রোড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল। ছবিটি রোববার দুপুরে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পৌরের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাকিবুল হাসান রনি ও সাধারণ সম্পাদক সুমন দাসসহ যুব-ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যায় শাহিন বাশেঁরহাটের একটি মাচার কাছে অবস্থান করছিল। এসময় মোটরসাইকেলে দুইজন সেখানে আসে। একজন থেকে যায় ও অপরজন মোটরসাইকেল নিয়ে দূরে চলে যায়। ওই দাঁড়িয়ে থাকা যুবক মুহুর্তেয় শাহিনকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহিন মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীর দুজন পালিয়ে যায়। তাঁর বুকে ও পিঠে গুলি লাগে। এ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী থেকে রাজশাহী এবং ভোর বেলা মুমুর্স অবস্থায় ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যুবলীগ সভাপতি তমাল এসময় অভিযোগ করেন, নিজ স্ত্রীকে গুলি করাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে জুবায়েরের বিরুদ্ধে। এরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে কিভাবে বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতে তাঁকে গুলি করার জন্য জুবায়ের বিশ্বাসকে দায়ী করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। যার ভিডিও ফেসবুকে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এই নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা নানা ধরনের মন্তব্যে ছোড়াছুড়ি করছেন ফেসবুকে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে জুবায়েরের বাড়িতে হামলা হয়। আবার পাবনাতে শাহিনের উপর হামলা চালায় জুবায়ের। এর কিছুদিন পর একটি লুটপাটের মামলায় জুবায়ের কারাগারে যায়।

এ সম্পর্কে শাহিনের প্রতিবেশি ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সিনিয়ন সভাপতি ফান্টু প্রামাণিক জানান, সেসময় জেলখানায় আটক থাকা অবস্থায় জুবায়ের লোক মারফত শাহিনকে দায়ী করে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলো। ধারণা করা হচ্ছে ওই বিরোধের জেরে জুবায়ের বিশ্বাস শনিবার সন্ধ্যায় শাহিনের উপর গুলি চালায়। এলাকার অনেকে বিষয়টি জানেন।

শাহিনের শাশুড়ি কল্পনা খাতুন জানান, তাঁর জামাতা নিরীহ প্রকৃতির। জুবায়ের ছাড়া আর কারও সঙ্গে শাহিনের বিরোধ নেই। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, গুলির ঘটনায় যতো বড় শক্তিশালী ব্যক্তি জড়িত থাকুক না কেন অপরাধীকে খুব শীর্ঘয় আইনের আওতায় আনা হবে। এই ঘটনায় দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগও করেনি। তবে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, সেখান থেকে ৩টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এবিষয়ে জুবায়ের বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের করে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুকে আইডিতে স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ এটা। পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যাবেনা। সত্য দিনের আলোর মতো পরিস্কার।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666