ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

তদন্তেই আটকে আছে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা মামলা: বিচারের দাবিতে ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও রূপপুরের বহুল আলোচিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিম  হত্যা মামলার তদন্তও শেষ হয়নি। আলোচিত এ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও খুনিরা রয়েছে অধরা। এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটন ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সেলিমের পরিবারে ক্ষোভ-হতাশা বাড়ছে।

এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দ’ ব্যানারে আজ রোববার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের ষ্টেশন রোড মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও পথসভার আয়োজন করা হয়।

পরে সেখানে পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল। বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নায়েব আলি বিশ্বাস, পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ রশীদুল্লাহ, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হবিবুল, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, নিহত মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে অন্তরা রহমান তমা ও সানজাদা রহমান ত্রপা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকান্ডের প্রায় আড়াই বছর অতিবাহিত হলেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ হত্যাকান্ডের সুরাহা না হলে মুক্তিযোদ্ধারা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দেন।

সেলিমের মেয়ে সানজাদা রহমান ত্রপা পথসভায় বলেছেন, কিছু বলার নেই, ‘আল্লাহর কাছে তো সব সময় চাই। তারপরেও আপনাদের যদি কিছু করার থাকে অনুরোধ যে যেভাবে পারেন একটু হেল্প করবেন। আমার বাবাকে যারা কেড়ে নিয়েছে তাদের ফাঁসি দেখে যেন আমি মরতে পারি।’

বিক্ষোভ মিছিল।

এর আগে, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তরিকুল ইসলাম ভাদু, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জহুরুল ইসলাম মালিথার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়ে খুনিদের শাস্তি দাবি করেন। এছাড়াও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ঈশ্বরদী শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিম রূপপুর বিবিসি বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্ত্বের গুলিতে মৃত্যু হয়। ওই রাতে নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে তানভীর রহমান তন্ময় বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরবর্তিতে ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই তদন্ত কাজ শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কিন্তু এপর্যন্ত কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

তদন্ত প্রসঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পাবনার পুলিশ সুপার ফজলে এলাহি বলেন, মামলার অগ্রগতি হয়েছে। আরো কিছু সময় পরে সুখবর পাওয়া যাবে।

পথসভায় বক্তব্যে দেন সেলিমের মেয়ে সানজাদা রহমান ত্রপা।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666