ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন

ক্লাস শুরুর ঘণ্টা পড়ল সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজে

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট দূরত্বে সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুলে ক্লাস চলছে। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

দীর্ঘ ১৮ মাস পর ক্লাস শুরুর ঘণ্টা পড়ল সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের। দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গত বছরের মার্চে ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। আজ রোববার খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। সকাল দশটার দিকে স্কুলের ফটকের সামনে ফিতা কেটে ক্লাস শুরু করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার।

স্কুলের ফটকের সামনে ফিতা কেটে ক্লাস শুরু করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার।

এসময় মাধ্যমিক শিক্ষার একাডেমিক সুপার ভাইজার আরিফুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক খন্দকার মাহবুবুল হক দুদুসহ শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সরজিমনে দেখা যায়, ঘণ্টা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাস শুরু হয়ে যায়। শিক্ষকেরা প্রবেশ করেন ক্লাসে। ক্লাসে শিক্ষকেরা প্রবেশ করার পর শিক্ষার্থীরা সবাই উঠে দাঁড়ায়। শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শন করে। ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন পর একে অন্যকে দেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। গল্প করতে দেখা যায় তাদের। শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। অভিভাবকদের হাত ধরে সকাল থেকে স্কুলে আসতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে স্কুলে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর সশরীর স্কুলে আসার আনন্দ তাদের চোখেমুখে। 

শিক্ষার্থীদের সবার মুখে মাস্ক থাকলেও অনেক অভিভাবকের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে অসচেতনতা লক্ষ করা যায়।

উচ্চবিদ্যালয়ের আঙিনা সাজানো হয়েছে নানা রঙের বেলুনে। মাইকে ঘোষণা করা হচ্ছে, কোন শিক্ষার্থীরা কোন কক্ষে যাবে। সকাল সাতটা থেকে স্কুলের সামনে অবস্থান করে দেখা যায়, স্কুলের প্রবেশপথে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মুখে মাস্ক রয়েছে। তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের লাইন ধরে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। স্কুলগেটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস পর খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ রোববার বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া কার্যক্রম।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ফটকের সামনে গিয়ে দেখা যায়, উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষ মূল ফটকে কার্যদিবসে কোন দিন কোন শ্রেণিতে কোন ক্লাস হবে—এমন একটি তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সরকারি নির্দেশনাগুলোও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্কুলে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম দিনে ২০২১-২২ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার্থী ৪৭৫ জনের মধ্যে ৩৪৭ জন ক্লাসে উপস্থিত ছিল। সপ্তম শ্রেণিতে ২৩৯ জনের মধ্যে ১৮৫ জন। কলেজ শাখায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ৯৭২ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৭৪ জন। এ ছাড়া স্কুল ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী সামিরা সুলতানা বলে, ‘অনেক দিন পর বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাসে দেখা হচ্ছে। আজ কী যে আনন্দ লাগছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। আজ আমার কাছে ঈদের দিন মনে হচ্ছে।’

আরেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জানায়, দীর্ঘদিন পর আজ স্কুলে এসে ক্লাস করার আনন্দে রাতে ঘুম হয়নি। এত দিন পর ক্লাসরুমে ঢোকায় যে কী রকম আনন্দ লাগছে, তা শিক্ষার্থীরা ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।

কলেজ শাখার প্রভাষক হালিমা খাতুন লাকি বলেন, ‘গত সপ্তাহ থেকে আমাদের প্রস্তুতি ছিল। শিক্ষার্থীদের সব সুবিধা ও অসুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’

অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যে সব শিক্ষার্থীর পদচারণে মুখর হবে প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ে পিয়ন হিসেবে চাকরি করেন মিজান। তিনি বলেন, করোনায় যখন পুরো প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে গিয়েছিল, তখন নিশ্বাস আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল তাঁর। শিক্ষার্থীদের মায়ার বন্ধনে পড়ে গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি যখন বন্ধ ছিল, তখন প্রায় সময়ই প্রধান ফটকের সামনে এসে তিনি বসে থাকতেন।

১৮ মাস পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত শিক্ষাঙ্গন। সহপাঠীদের সঙ্গে অনেক দিন পর দেখা হওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ছবি তুলছে শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666