ঢাকা শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে আজ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে স্কুলে স্কুলে

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছবি: ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর

টানা ১৭ মাস পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে ঈশ্বরদীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। আজ রোববার উপজেলার প্রাথমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তরের প্রায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত হবে ক্যাম্পাসগুলো। ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এ উপলক্ষে চার-পাঁচ দিন ধরে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা। ভবন, শ্রেণিকক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদসহ বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া রং করা হচ্ছে মলিন হয়ে যাওয়া দেয়াল ও আসবাবপত্র। মেরামত করা হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন ও যন্ত্রপাতি। শৌচাগার পরিষ্কারের পাশাপাশি পানির লাইনগুলো পরীক্ষা করে নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সব প্রস্তুতি শেষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ইতিমধ্যে উপজেলায় মতবিনিময় সভা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি সরকার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাঠদানের জন্য প্রস্তুত সব বিদ্যালয়। ইতিমধ্যে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে। অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন আসবে, সপ্তাহে প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে দুটি করে ক্লাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রুটিন করেছে।

স্কুলপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়কে প্রস্তুত করা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতি শেষে তাদের পাঠদানে মনোযোগী করে তুলতে শিক্ষকেরা নিরলসভাবে কাজ করবেন।

এদিকে ঘরে বসে হাঁপিয়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা আবারও মেতে উঠতে চায় পড়াশোনার আনন্দে এবং বিদ্যালয়ের আঙিনায় খেলাধুলায়। ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঘুরে গেছে তাদের চিরচেনা ক্যাম্পাস। স্কুল খোলার খবরে খুশি অভিভাবকেরাও। তবে শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির শঙ্কাও রয়েছে অভিভাবকদের মনে।

মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিদুর রহমান বলে, ‘ক্লাসে যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছি। ঘরবন্দী থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছি। কত দিন হলো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না, টিফিনের সময় মাঠে খেলতে পারি না।’

রহিমপুর এলাকার অভিভাবক আলতাফুর রহমান বলেন, স্কুল খুলছে ভালো কথা, কিন্তু শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এখনো শিক্ষার্থীরা টিকা পায়নি। অনেক শিক্ষককেও টিকার আওতায় আনা যায়নি। তাই দ্রুত শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666