ঢাকা সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৩৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে চামড়া কেনা নিয়ে সংশয়!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
ফাইল ছবি

ট্যানারি মালিকের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় পুঁজি সংকটে পড়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে ন্যায্য দাম না মেলায় এ ব্যবসায় চলছে মন্দাভাব। ফলে কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেও তাঁরা চামড়া কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দরে চামড়া বিক্রির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ট্যানারি মালিকেরা দামের নিশ্চয়তা না দেওয়ায় তা কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে গরুর চামড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা বর্গফুট দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বেঁধে দেওয়া সরকারি দামে তা কেনা অসম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চামড়া কিনতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। ব্যবসার এমন দুর্গতিতে চামড়া কেনা নিয়ে হতাশয় ভুগছেন তাঁরা।

ঈশ্বরদী চামড়া মোকামের নিয়মিত ব্যবসায়ী আশাদুজ্জামান জানান, কোরবানিতে ঈশ্বরদীতে কমপক্ষে ২২ হাজার পিস চামড়া কেনাবেচা হয়। এলাকার ব্যবসায়ীরা এসব কিনে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। এ জন্য তাঁরা প্রতি ঈদে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করেন। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও ট্যানারি মালিকেরা নিশ্চুপ।

আশাদুজ্জামান আরও জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে চলতি ব্যবসার এবং বিগত তিন বছরে ঈশ্বরদীর প্রায় ১৫ ব্যবসায়ীর মূলধনের লক্ষ লক্ষ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গতবারের মতো এবারও চামড়ার দরপতন ঘটিয়ে সস্তায় কেনার পাঁয়তারা করছেন ট্যানারি মালিকেরা। কারণ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা দিলেই তাঁরা চামড়া কিনবেন। তবে পাড়া-মহল্লার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা না বুঝে তা কেনায় সমস্যা হয় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের। কারণ, তাঁরা দর না মেনে বেশি দামে কেনেন। এতে ভালো মানের চামড়া কিনতে বেশি দাম দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁরা কেনা ও বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁদের সংশয় সরকারি দরে চামড়া কেনা সম্ভব হবে না। আবার ঝুঁকি নিয়ে কিনলে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হতে পারে।

ঈশ্বরদী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হায়দার আলী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দর বেড়েছে। তবে দেশি বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। ট্যানারি মালিক ও আড়তদারেরা দর কমিয়ে লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিজের পুঁজি দিয়ে তা কিনবেন না। এ ক্ষেত্রে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চামড়া কেনার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ধরা খেতে পারেন বলে সংশয় প্রকাশ করেন হায়দার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বছর কোরবানির গরুর লবণযুক্ত চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকাতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা দর নির্ধারণ করেছে। খাসির চামড়ার দাম সারা দেশে প্রতি বর্গ ফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666