ঢাকা রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ১০০ দিন ধরে দুইশ’ ছিন্নমূলকে খাবার দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা

সেলিম সরদার
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
ছিন্নমূলকে প্রতিদিন রাতের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

করোনাকালের এই দুঃসময়ে যাদের একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার সঙ্গতি নেই, সেই দুইশ’ ছিন্নমূলকে গত একশ’ দিন ধরে প্রতিদিন রাতের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। প্রতিদিন রাত ৯টা বাজতে না বাজতেই একদল স্বেচ্ছাসেবক স্বেচ্ছাশ্রমে খাবার নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন শহরের রাস্তায়, স্টেশনে, ফুটপাতে, রেলের বুকিং কাউন্টারে ও বাসস্ট্যান্ডে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীতে এই কর্মকাণ্ডের টানা ১০০ দিন পূর্ণ হলো। এ জন্য সাদা ভাত, মুরগির মাংস রান্না করা হয় তাদের জন্য।

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর যখন ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন, মালগুদাম শেডসহ শহরের শত শত ছিন্নমূল মানুষ খাবারের অভাবে অসহায় হয়ে পড়ে, তখন পাবনা রোডের বাসিন্দা রফিকুল হাসান তপন সরদার নামের এক স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগী হয়ে এসব ছিন্নমূল মানুষকে প্রতিদিন একবেলা রান্না করা খাবার প্রদানের চিন্তা করেন। একে একে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও স্বজনের সঙ্গে আলাপ করে শুরু করেন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের। প্রথমদিকে একশ’জনের জন্য প্রতিদিন একবেলা করে খাবার রান্না করার ব্যবস্থা করেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্ণ হলো টানা ১০০ দিনের এই আয়োজন। স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, ঈশ্বরদীতে কারও জন্মদিন, মৃত্যুদিন কিংবা বিশেষ কোনো দিনকে কেন্দ্র করে যারা বাড়িতে দুস্থদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতেন, এখন তাদের অনেকেই বাড়িতে আয়োজন না করে তাদের মাধ্যমে এই আয়োজন করেন। স্বেচ্ছসেবীদের এই উদ্যোগে তাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান ছাড়াও অসংখ্য সচ্ছল ব্যক্তি। উদ্যোক্তা রফিকুল হাসান তপন বলেন, ‘প্রতিদিন ঈশ্বরদী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন প্রয়াত ডা. নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে চলে এই রান্নার আয়োজন। রান্নায় ব্যবহার করা ডেগ, হাঁড়ি-পাতিলও ইতোমধ্যে ক্রয় করা হয়েছে। সপ্তাহের কোনো দিন খিচুড়ি, কোনো দিন বিরিয়ানি, কোনো দিন সাদা ভাতের সঙ্গে মুরগির মাংস, খাসির মাংস কিংবা সবজি-ভাত রান্না হচ্ছে এখানে। দেওয়া হচ্ছে দুইশ’ ছিন্নমূলের হাতে।’

সংগঠক আফছার আলী জানান, বিত্তবানরা তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখছেন, তাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন, উৎসাহ দিচ্ছেন। রফিকুল হাসান, তপন সরদার, শরিফুল ইসলাম লিপু, কবির আলী, হিরু ফকির, রফিকুল আলম তুহিন, জামানুর আযম চেলা, দীলিপ কুমার, ডা. আনোয়ারুল ইসলাম, আফছার আলী, আনোয়ার হোসেন রিন্টু, জাহাঙ্গীর আলম, সোহাগ, বিপু, শাহীন হান্নানসহ অন্যরা প্রতিদিন স্বেচ্ছাশ্রমে এই কাজটি করে যাচ্ছেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘এই স্বেচ্ছাসেবীদের কর্মকাণ্ড দেখে তাদের উৎসাহিত করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থ সহায়তা করেছি, প্রয়োজন আরও দেব।’ ঈশ্বরদীর ইউএনও শিহাব রায়হান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই টন চাল প্রদান করা হয়েছে তাদের।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666