ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ব্যক্তি স্বার্থে বাঁধ, তলিয়ে গেল ৩শ’ বিঘা জমির ফসল

সেলিম সরদার
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০

ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় সামাদ সরদার নামের এক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে মানিকৈড় ক্যানেলের মুখে বাঁধ দেওয়ায় বর্ষার পানি আটকে প্রায় ৩শ’ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০-২৫ কৃষক ইউএনও ও উপজেলা কৃষি অফিসারকে লিখিত আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত বাঁধ অপসারণ করা হয়নি।

দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মানিকৈড় ও কালিকাপুর এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠের পাকা ধান, পাট, ঝিঙা, তিল, করলা, কলা, লিচুসহ বিভিন্ন ফসল, ফল ও সবজির বাগান বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এলাকার সাতটি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে। কৃষক খন্দকার আলমাস আলী জানান, এ বছর আষাঢ়ের শুরু থেকে বৃষ্টিপাত ও ভারি বর্ষণের সময় মানিকৈড় মৌজা ও কালিকাপুর এলাকার ২৫-৩০ জন কৃষকের সব ফল, ফসল ও সবজির জমি জলমগ্ন হতে হতে গত এক সপ্তাহ ধরে তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এ কারণে তিন মৌসুমের আবাদও বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বারবার অনুরোধ করার পরও বাঁধ কেটে পানি বের না করায় বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

এলাকার প্রভাবশালী আব্দুস সামাদ সরদার তার নিজের প্রয়োজনে সরকারি ক্যানেলের মুখে মাটি কেটে উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। বাঁধ রক্ষায় এর দু’পাশে কলাগাছও লাগিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে সামাদ সরদার বলেন, ‘আমি আমার প্রয়োজনে বাঁধ দিয়েছি। এ বাঁধ কেটে দিলে আমার জমির ফসল ডুবে যাবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, কৃষকদের লিখিত অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা মিলেছে। এ বাঁধ উচ্ছেদের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সুপারিশ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ বলেন, ইউএনওর নির্দেশনা পেলে বাঁধ অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে।

ঈশ্বরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বলেন, ‘কৃষকদের লিখিত অভিযোগ ও কৃষি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। শিগগিরই এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666