ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

করোনা সচেতনতায় শহরের রাস্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০
ডা. মুসলিমা জাহান অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী

আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী নির্বাচনী এলাকার নিবেদিত জনবান্ধব উচ্চ শিক্ষিত এক নারী “যিনি নিজেকে করোনা যুদ্ধে উৎসর্গ করেছেন, এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মুসলিমা জাহান। তিনি এলাকায় ময়না আপা নামেই বেশী পরিচিত। বিদেশে উচ্চ শিক্ষা শেষে দেশের অন্যতম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি নিজেকে জনসেবায় আত্ম নিয়োগ করেছেন। মা মাটি ও মানুষের ভালোবাসা আর জনগনের সেবার উদ্দেশ্যেই বিদেশে লোভনীয় সব চাকুরী ছেড়ে নিজ এলাকায় এসে জন সেবায় নিয়োজিত করেছেন এই নারী।

বাংলাদেশে যখন অন্যান্য মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, নেতা ও পাতি নেতা যখন ঘরে অবস্থান করছে, ঠিক তখনই নিজেকে তিনি ব্যতিব্যস্ত রেখেছেন করোনা সচেতনতা মূলক কাজে। সূর্য উদয় থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন মানবতার সেবায়। আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী নির্বাচনী এলাকায় উপ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক প্রায় দেড় ডজন নেতাদের যখন দেখা নেই মাঠে ঠিক এমন সময়েও সে মাঠে কাজ করছেন তার কর্মীদের মাঝে। নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন জনসেবায়। স্থানীয়দের মধ্যে অসংখ্য লোকের ভীড়ে অলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে এই এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. মুসলিমা জাহানের নাম।

পাবনার দুটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন যদি করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশে কাউকে পুরস্কৃত করা হয়, তাহলে যেন ড. মুসলিমা জাহানকে দেওয়া হয়। যার নাম হবে “করোনা জয় এ্যাওয়ার্ড”।

আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী নির্বাচনী এলাকার লোকজন জানান, সার্বক্ষণিক তিনি চলমান পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া সকল সচেতনতা বার্তা গ্রামের সাধারন মানুষকে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে উদ্বুদ্ধ করছেন। বলা যায়, তিনি নিজেকে জনগনের সেবায় বিলিয়ে দিচ্ছেন।

তারা আরো জানান, মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও সচেতনতায় আরেক নাম ময়না আপা। বর্তমানে তিনি ছাড়া আমাদের এলাকায় সে ভাবে কেউ তার মতো করে খোঁজ খবর নেয়নি। তিনি নি¤œ আয়ের মানুষের ঘরে ত্রানের পাশাপাশি জনগনকে সচেতন করছেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার ইত্যাদি বিতরণ করে বেড়াচ্ছেন।

অতি সম্প্রতি দাশুড়িয়া মোড়ে নি¤œ আয়ের মানুষের মধ্যে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণের সময় কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, এই আসনের ডিলু চাচা মারা যাওয়ার পর পরই প্রায় দেড় ডজন লোক এমপি হওয়ার খায়েশ প্রচার করলেও এই দু:সময়ে কারো মাঠে দেখছি না। তারা বসন্তের কোকিলের ন্যায় হঠাৎ এসে হৈচৈ করে আবার চলে যান। জনগনের পাশে থাকার মতো কারো দেখছি না। অথচ এই ময়না আপা দিনের পর দিন আমাদের পাশে এসে খোজ খবর নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ড. মুসলিমা জাহান ময়না বলেন, জনগনের সেবা করতে এসেছি। বিদেশে ভালো ভালো চাকুরীর অফার ফিরিয়ে দিয়ে দেশে এসেছি শুধুমাত্র আমার জন্ম এলাকার মানুষের পাশে থাকার জন্যে। এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে অন্যান্যদের মতো যদি আমি ঘরে বসে থাকি তাহলে আমার আর তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকবে কি ভাবে। আমি তো বসন্তের কোকিলের ন্যায় রাজনীতি করতে আসি নাই। আমি সত্যি জনগনের হয়ে কাজ করতে মাঠে রাজনীতি করতে এসেছি। শিক্ষা জীবনে ডাবল ষ্ট্যান্ড করে ইতালির তুরিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে রাজনীতি করতে এসেছি। চাকুরী করলে অনেক ভালো কিছুই তো করতে পারতাম জীবনে। নিজেকে নারী মনে করি না, আমি নিজেকে প্রথমে মানুষ মনে করি। সে জন্যেই মানুষের পাশে থাকতে চাই সারা জীবন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666