ঢাকা বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

বন্ধের নির্দেশের পরও চলছে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিক

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিক।

পাবনা সিভিল সার্জন বিভাগ রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেন গেল কয়েকদিন আগে। নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যক্রম চালু রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিলেও উপজেলা প্রশাসন কার্যত নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।

করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠে এ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিভিল সার্জন বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার কোনো অনুমোদন ছাড়াই চালাচ্ছিলেন এসব কার্যক্রম।

এদিকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দিলেও রানার মালিকানাধীন রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকটি বন্ধ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যার ফলশ্রুতিতে বীরদর্পে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। সরেজমিন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) অনুসন্ধান চালিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুল ওহাব রানা এবং নাটোরের বড়াইগ্রামের সুজন আহমেদের যোগসাজশে গত কয়েক দিন যাবত করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এ জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার মাঠে তাঁবু বসায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েক শতাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি রিপোর্টের জন্য ৫-৬ হাজার টাকা নিয়ে তা পাঠানো হত ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

জালিয়াতির অভিযোগে গেল মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) রাতে আটক করা হয় রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুল ওহাব রানাকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি আসাদুর রহমান বিরু বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কীভাবে এ প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সমালোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে গোপনে ম্যানেজ করেই তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে কী না তা খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

পাবনা জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন মেহেদী ইকবাল জানান, করোনার এই ক্রান্তিকালে জনগণের সাথে প্রতারণার এমন ঘটনাকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন প্রতিষ্ঠানটি বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালিত হওয়ায় জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বন্ধের নির্দেশের পরও কেন চলছে প্রতিষ্ঠান এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খবর প্রচার না করতে টাকা দেয়ার চেষ্টা করেন ক্লিনিকের ম্যানেজার বুলু।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: