ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজার, চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২০
ঈশ্বরদীতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চাল বিক্রি করায় এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে প্রথম মৃত্যুর খবরে আতঙ্কে রয়েছে লোকজন। যে কোনো মুহূর্তে শাটডাউনের শঙ্কায় অনেকেই চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত করতে শুরু করেছেন। এর প্রভাব পড়েছে ঈশ্বরদী বাজারে। বাড়তি দামে চাল-পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছেন বিক্রেতারা।

খবর পেয়ে শুক্রবার (২০ মার্চ) অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে অভিযান চালান। অভিযানে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানোয় ঈশ্বরদী বাজারের ভাই ভাই রাইস সপ এজেন্সিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আড়ত ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অভিযোগে তিন ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে শহরের রেলগেট এলাকায় নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রির অপরাধে আলিফ হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্টকে ১০ হাজার, সীমা হোটেল এন্ড রেস্টোরা ২০ হাজার টাকা ও পাবনা সুইটস ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ঈশ্বরদীতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে  পেঁয়াজ বিক্রি করায় ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়।

শুক্রবার ঈশ্বরদী বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে চাল, পেঁয়াজ, আলু ও রসুন কিনে মজুদ করছেন। ফলে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। দুই দিনের ব্যবধানে ঈশ্বরদী বাজারে চাল ও পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। পাশাপাশি দাম বেড়েছে আদা, রসুন ও আলুর।

আজকের দর অনুযায়ী, শুক্রবার চাল ৫৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গতকাল বৃহস্পতিবার ৫৪ টাকার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে; যা গত বুধবারও ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, যা দুইদিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়, যা বুধবার ছিল ১৪০-১৫০ টাকা। ১০০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকা। আর ১৮-২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গোল আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৮ টাকায়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ মহল জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে কেউ যেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে পারে। মজুত থাকার পরও নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়াতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন আজ থেকে মাঠে থাকবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে।

এরআগে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে পরিষদ মিলনায়তনে এক সভার আয়োজন করেন। এই সভায় তিনি সুযোগ গ্রহন করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অযথা মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য আহব্বান জানান।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: