ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা: হুকুম দেন চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৯
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ছেন নিহত সেলিমের ছেলে তানভীর রহমান তন্ময়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন নিহত সেলিমের ছেলে তানভীর রহমান তন্ময়। তিনি বলেন, ‘সাপ্তাহিক ঈশ্বরদী বর্ষ-১৭ সংখ্যা-৪৬, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে ‘‘মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে মোটিভ? ফেসে যেতে পারেন পরিচিত অনেকেই’’ শিরোনামে সংবাদটি আমার দৃষ্টি গোচর হয়েছে। এ হত্যা মামলাটি কুচক্রি মহল ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ পদ্মানদীর চরের খাস জমি অধিগ্রহন করলে এলাকার প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মানবিক বিষয় বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকরাই ফসলের ক্ষতিপূরন বাবদ প্রায় ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। সেই ক্ষতিপুরনের টাকা যাতে প্রকৃত কৃষকরাই পায় তার দাবিতে আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমাম সেলিম সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু কিছু স্থানীয় কুচক্রি মহল নিজেদের আত্বীয় স্বজন ও ব্যাক্তিগত কর্মচারীদের ভূয়া কৃষক সাজিয়ে তালিকা প্রণয়ন করে প্রায় ২৮ কোটি টাকা নামে বে-নামে আত্বসাৎ করার সমস্ত প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে। কিছু টাকা উত্তোলন করে এবং অবশিষ্ট টাকা উত্তোলনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু আমার বাবা প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে ভূয়া কৃষকদের এই টাকা উত্তোলনের বিপক্ষে সবসময় প্রতিবাদী ছিলেন। দুর্নিতির মাধ্যমে ভূয়া কৃষকদের মাঝে টাকা বিতরণে আমার বাবা বিরোধিতা করায় পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস আমার বাবা হত্যা হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মাস্তান বাহিনীসহ আমাদের বাড়িতে এসে পরিবারের সকলের সামনে ‘টাকা উত্তোলনে বাধা সৃষ্টির পরিনাম মোটেও ভালো হবেনা’ বলে হুমকি ধামকি দিয়ে যায়। এর কিছুদিন পরেই হত ৬ ফেব্রুয়ারী রাতে নিজের বাড়ির গেটের সামনে গুলিবিদ্ধ হয় আমার বাবা। তাঁরপর ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, হত্যার প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করে মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে রূপপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮-১০ বছর আগে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে যে তুচ্ছ ঘটনাটি ঘটেছিল তা সংবাদপত্রে প্রাধান্য দিয়ে তুলে ধরেছে। যে ঘটনার সাথে বাবার সরাসরি কোন প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না। সে সময় তিনি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন। সেই ঘটনাটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়। এটি কয়েক দিনের মধ্যেই নিস্পতি হয়। পরবর্তীতে মোঃ রশিদুল্লাহ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়। শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে আমার বাবা হত্যার বিষয়ের কোন সম্পর্ক নাই। মামলার তদন্ত বা তদন্ত কারী অফিসারের বিরুদ্ধে কে বা কারা কতিপয় এলাকাবাসির নাম স্বাক্ষরিত ডি.আই.জি বরাবর যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সাপ্তাহিক ঈশ্বরদী পত্রিকায় খবর ছাপানো হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত না। আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছে না যে এ ধরনের হত্যাকান্ড নিয়ে তদন্ত চলাকালিন সময়ে দুই একটি পত্রিকায় কেন বা কি উদ্দেশ্যে মনগড়া বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা হচ্ছে? আপনারা যে কথাটি একটি বারও কোন খবরের কাগজে প্রকাশ করেন নাই যে, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয় প্রার্থী ছিল আমার বাবা মোস্তফিজুর রহমান সেলিম। নির্বাচনে এনামুল হক বিশ্বাস কালো টাকার প্রভাব, অস্ত্র ও গুন্ডাপান্ডা দিয়ে ভয় ভীতি ও হুমকি ধামকি দেখিয়ে আমার বাবার নির্বাচনী কাজে বাধা সৃষ্টিকরে। তাঁকে গৃহবন্দি করে একতরফা নির্বাচন করে বাবার নিশ্চিত বিজয়কে ছিনিয়ে নেয়।

‘এ হত্যাকাণ্ডে কে কে জড়িত’ এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে তানভীর রহমান তন্ময় বলেন, আমার বাবা হত্যার পরদিন পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের ভাতিজা আবদুল্লা আল বাকী ওরফে আরজু ও ৭ মার্চ তাঁর ছেলে রকি বিশ্বাস গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরে তাঁদের কাছথেকে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাহলে আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যান্য আসামী ও পরিকল্পনা কারীসহ হুকুম দেন কে? উত্তরে এনামুল হক বিশ্বাসের নাম আসবে। এনাম বিশ্বাসের কুকর্মের বিরুদ্ধে এলাকায় মহিলাদের ঝাড়ু মিছিল হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় হত্যা, বালু ব্যবসা ও অবৈধ ঘাট দখল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তিনি। এসময় তিনি আরোও বলেন, গ্রেফতার বিলম্বের কারনে তিনি অবৈধভাবে উপার্জিত কালো টাকা ও ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি অন্যদিকে প্রভাবিত ও তদন্তে কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।      

সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব নায়েব আলী বিশ্বাস, সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল, বীরমুক্তিযোদ্ধা আতম শহিদুজ্জামান নাসিম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আবুল কালাম মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ছবি, আ’লীগ নেতা জহুরুল হক মালিথা, সাইফুদ্দীন পিন্টু, মহিদুল ইসলাম ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী সংহতি প্রকাশ করে। এসময় নিহত মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের স্ত্রী দিলারা বেগম ও মেয়ে সানজানা রহমান ত্রপা উপস্থিত ছিলেন।   

গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকশীর রূপপুরে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম নিহত হন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666