ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে বাইরের বই কিনতে বাধ্য করছে প্রধান শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০
ব্যাকরণ বই। ছবি: ঈশ্বরদীনিউজটুয়েন্টিফোর.নেট গ্রাফিক্স টিম

সরকার থেকে বিনা মূল্যে ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ বই দেওয়া হলেও পাকশী রেলওয়ে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তা পড়ানো হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন তাঁর পছন্দমতো বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লার্নার্স পাবলিকেশন প্রকাশিত ভাষা প্রসূন বাংলা ব্যাকরণ ও সহায়িকা (গাইড) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলার তিনটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বই ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, লার্নার্স পাবলিকেশন থেকে মোটা অঙ্কের টাকা অনুদান পেয়েছে প্রধান শিক্ষক। ২০১৭ সাল থেকে প্রকাশনীর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের বই পাঠ্য করা শুরু করে। বর্তমানে এ টাকার অঙ্ক ৪৫ হাজার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকশী রেলওয়ে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

গেল কয়েকদিন আগে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের একটি বইয়ের দোকানে লার্নার্স পাবলিকেশন নির্ধারিত বই কিনতে শিক্ষার্থীদের ভিড়। তাদের সঙ্গে অভিভাবকেরাও এসেছেন। অনেক দরিদ্র অভিভাবক বইয়ের বেশি দাম শুনেই চলে যাচ্ছেন। কেউ শুধু ব্যাকরণ বই আবার কেউ গাইড কিনে নিচ্ছেন।

শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি ছেলে ও ভাতিজির জন্য দোকানে বই কিনতে যান। কিন্তু দাম শুনেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। পকেটে টাকা না থাকায় বই পরে নেবেন বলে দোকান থেকে বেরিয়ে আসেন।

উপজেলার বইয়ের দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লার্নার্স পাবলিকেশন বাংলা ও ইংরেজী ব্যাকরণ বই ষষ্ঠ শ্রেণির ৫৪৩ টাকা, সপ্তম শ্রেণির ৪৮৮ টাকা, অষ্টম শ্রেণির ৭১৪ টাকা এবং নবম শ্রেণির ৮৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সব বিষয়ের এক সেট সহায়িকার মূল্য নির্ধারিত রয়েছে যথাক্রমে ৬৩০ টাকা, ৬৫০ টাকা ও ১ হাজার ১০০ টাকা। নবম শ্রেণির সহায়িকার দাম প্রায় আড়াই হাজার টাকা রয়েছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বই ব্যবসায়ী জানান, শহরের বইয়ের দোকান থেকে ১৪ শতাংশ ছাড়ে বই দেওয়া হয়; যা খুচরা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ লাভে তাঁরা বিক্রি করেন।

এ বিষয়ে পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ও বিদ্যালয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসাদুল হক জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, সব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নির্ধারিত বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়ানো বেআইনি। বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন না মেনে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন হবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনো প্রকাশনী থেকে অর্থ নেয়নি। পাঠ-পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য কিছু বই কিনতে বলা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছায় এ বইগুলো কিনছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: