ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

এসিল্যান্ড বদলে দিলেন ঈশ্বরদী ভূমি অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২০
মমতাজ মহল। ফাইল ছবি

বদলে গেছে ঈশ্বরদীর ভূমি অফিস। ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে ভূমি সেবা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতাজ মহল। নামজারিতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই দালালদের হাতে হয়রানির শিকার হতেন। তাই দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে তিনি উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চালাচ্ছেন নানা প্রচারণা।

মমতাজ মহল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে ঈশ্বরদীতে যোগ দেয়ার পর থেকে ভূমি সেবায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মিস রিভিউ মামলা নিষ্পত্তিতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। ঝুলে থাকা ৪২৪টি মামলার ৩৫২টিই শুনানির মাধ্যমে ১২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। ফলে সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি ও হয়রানি লাঘব হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে সেবা দিতে তিনি একের পর এক পরিকল্পনা হাতে নেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে সুফলও পান তিনি।

২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে যোগ দেয়ার প্রথম সপ্তাহে অফিসের মূল ভবনের সামনে একটি কক্ষ তৈরি করে ডেস্কের মাধ্যমে দ্রুত সেবা ব্যবস্থা চালু করেন। যেখানে নামজারি প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ ফাইল জমা দিয়ে ঘরে বা প্রবাসে বসেই অনলাইনে ও এসএমএসের মাধ্যমে জেনে যাচ্ছেন নামজারির সর্বশেষ অবস্থা। এটি চালুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এসিল্যান্ড। চালু হওয়া সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানানোর জন্য সেবা-সংক্রান্ত লেখা ফেস্টুন প্রতিটি ভূমি অফিসে সাঁটানো হয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, এসিল্যান্ড মমতাজ মহল ডিজিটাল ভূমি অফিস গড়ার লক্ষ্যে চালু করেছেন ভূমির অনলাইন ডাটাবেজ। আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চালু হয়েছে সফটওয়্যার পদ্ধতি। অফিসের প্রবেশপথ পার হলেই চোখে পড়ে হেল্প ডেস্ক। সামনের দেয়ালে, ভবনের দেয়াল ও সেবা প্রার্থীদের বসার কক্ষের দেয়ালে স্টিকার করা প্রিন্ট কাগজে স্পষ্ট করে লেখা আছে ওয়েবসাইটে কীভাবে নিজের নামজারি সম্পর্কে জানবেন ইংরেজিতে লেখা ঠিকানা, জমির নামজারি করতে কত টাকা লাগে, খতিয়ান তুলতে কত টাকা ও খাসজমি বন্দোবস্ত নিতে কি করণীয় ও কোন বিষয়ে, কার সঙ্গে, কীভাবে যোগাযোগ করতে হবে, সব কিছুই। আবার দালালরা যাতে আড়ালে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, তাই পুরো অফিসে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি। যার মাধ্যমে এসিল্যান্ড নিজের কক্ষে বসে পুরো অফিস নজরদারি করেন।

সেবা নিতে আসা উপজেলার শ্রীরামগাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মো. আশরাফ তালুকদার জানান, এসিল্যান্ড মমতাজ মহল যোগ দেয়ার পর এই অফিসকে বদলে দিয়েছেন। ডিজিটালেই রূপান্তরিত হয়েছে অফিসটি। অনলাইনে ডাটাবেজ তৈরি করে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে বসে নামজারির তথ্য জানার সুযোগ করে দিয়েছেন। ফলে গ্রাহকরা সেবা যথাযথভাবে পাবে বলে আমি আশা করি।

ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতাজ মহল বলেন, হেল্পডেক্স ও ছায়াবীথি সেবা উদ্যানের মাধ্যমে সেবা প্রার্থীরা নামজারির আবেদন, মিস কেসের নিয়ম, নামজারি রিভিউ, করণিক ভূমি সংশোধন ও কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের আবেদন, পাবলিক পিটিশন, অর্পিত সম্পত্তির ইজারা নবায়নের আবেদন, নকলের জন্য আবেদন সেবাগুলো পাবেন।

তিনি আরও বলেন, সেবা সম্পর্কে লেখা ফেস্টুন দেয়ার লক্ষ্য হলো- কোনো দালালের কাছে না গিয়ে আমাদের কাছে সরাসরি চলে আসার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।

এ ছাড়া ওয়েবসাইটে নামজারি প্রার্থীরা একটি ফরমেটে তাদের কোনো অভিযোগ আমাকে ও জেলা প্রশাসককে জানাতে পারবেন। সেখানে অভিযোগকারীরা ভিআইপি সেবা পাবেন। তিনি নিজেই সরাসরি সেবা প্রার্থীকে ফোন করে সমস্যার সমাধান করবেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: