ঢাকা শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ, শিক্ষক অবরুদ্ধ, পরে সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২০
প্রতীকী ছবি

ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী মাথালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলন কুমার ভৌমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর বাবা মিলন কুমারের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে অভিযোগ করেন। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে স্থানীয়রা রবিবার (০১ মার্চ) ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মুনছুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি সরকার জানান, অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পাবনা জেলা কর্মকর্তার কাছ সুপারিশ করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মুনছুর রহমান সোমবার (২ মার্চ) ওই শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে মৃণাল কান্তি সরকার বলেন, ‘এক ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলি। দুই জন ছাত্রী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।’

গ্রামবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভাড়ইমারী মাথালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শ্রেণীকক্ষে কোনো শিক্ষক না থাকায় পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে তাদের শ্লীলতাহানি করেন তিনি। তাৎক্ষণিক ওই শিশু শিক্ষার্থীরা কান্না শুরু করে। পরে শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে বিষয়টি সহপাঠীদের জানিয়ে দেয় তারা।

পরে খবরটি জানাজানি হলে অভিভাবকসহ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে এসে উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে। তবে সেদিন সুকৌশলে পালিয়ে যান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এরপর অভিভাবকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবি করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।

পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে তার অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে ছাত্রীদের অশ্লীল ভিডিও দেখায়। এছাড়া অশ্লীল কথা বলার পাশাপাশি শারীরিকভাবে তাদের হেনস্থাও করেন তিনি। তার এ অপকর্মের ব্যাপারে কাউকে জানালে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হবে বলে ছাত্রীদের ভয় দেখান ওই শিক্ষক।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চাইত না, কান্না করত। কেন যেতে চায় না জানতে চাইলে সে আমাদের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। তখন বিষয়টি লিখিতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে আমি জানাই।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আইনুল হক বলেন, তিনি শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন করতে ভালোবাসেন এবং তা করেনও। বিবেক বর্জিত এ শিক্ষকের কারণে মেয়েদের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। অনেক মেয়ের পড়ালেখাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই তার শাস্তি ও বদলি দাবি করে শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। উত্তর পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক শ্রীলতাহানির অভিযোগকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দাবি করে বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এলাকার কিছু মানুষ আমাকে বিদ্যালয় থেকে তাড়ানোর জন্য ছাত্রীদের দিয়ে অভিযোগ করিয়েছে।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: