ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ফিলিং ষ্টেশন দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
ফিলিং ষ্টেশন দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: ঈশ্বরদীনিউজটুয়েন্টিফোর

জোর করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেসার্স রউফ এ্যন্ড ফিলিং ষ্টেশনের স্বত্বাধিকারী মরহুম আলহাজ্ব আব্দুর রউফের দ্বিতীয় স্ত্রী সানজিয়াস রউফ।

গেল বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার পেতে সাংবাদিকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বামী জীবিত অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ আগষ্ট ৪৪৭৮ নম্বর দানপত্র দলিলে বর্তমানে ফিলিং ষ্টেশন (মেসার্স রউফ এন্ড সন্স) ও বাড়ীর ২৭ শতাংশ জমি তাঁর একমাত্র নাবালক ছেলে রোফিউল হাসান মেহরাবের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই তিনশ টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে অনিবন্ধনকৃত একটি বন্টননামা দলিল নিজ হাতে লিখে যায়। বন্টননামা দলিলের প্রথম পৃষ্ঠায় ঈশ্বরদী থানার বেদুনদিয়া মৌজার খতিয়ান নং ১৪৯ দাগ নং ৩৯১ ভূমি ৮০ শতাংশসহ ফিলিং ষ্টেশন ও বাড়ী ভোগ দখল পাবে দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান রাফিউল হাসান মেহরাব। বন্টনামার তৃতীয় পাতায় আরও উল্লেখ করেন যে, ‘যেহেতু ফিলিং ষ্টেশন রাফিউল হাসান মেহরাবের নামে রয়েছে, তাই সাবালক না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসার গচ্ছিত টাকার ব্যাংক অপারেট করসহ তেল আনা ইত্যাদি সকল কার্যক্রম তাঁর মা সানজিয়াস রউফ অভিভাবক হিসেবে পরিচালনা করবে।’

তিনি বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুতে আমি ভেঙ্গে পড়ায় আমার নাবালক ছেলে রাফিউল হাসান মেহরাবের নামের জমিসহ ফিলিং ষ্টেশন দেখা শোনার জন্য প্রথম পক্ষের বড় ছেলে সামিউল হাসান জ্যাকিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু জ্যাকি আমাকে প্রোপাইটর হিসেবে না মেনে ১০ বছরের জন্য পেট্রোল পাম্প পরিচালনাসহ পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির দাবি করে । আমি তাতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক জ্যাকি পেট্রোল পাম্প দখল করে পরিচালনা করতে থাকে এবং আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও নানা রকম হয়রানি করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে আমি আদালত থেকে আমার ছেলের অভিভাবকত্বসহ তার সমস্ত শরীর ও সম্পত্তি দেখাশোনা ও পরিচালনা করার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। ফলশ্রুতিতে রায়ের কপি ও অভিভাবকত্বসহ আমি-আমার নাবালক ছেলে পেট্রোল পাম্প পরিচালনার জন্য গেলে আমাকে ও আমার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে এবং পেট্রোল পাম্প থেকে বের করে দিয়ে তালা মেরে দেয়। এ ব্যাপারে নিরাপত্তার অভাবে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি।

তিনি বলেন, আমার স্বামীর ঈশ্বরদী শহরের তিন তালা বাড়ী, পেট্রোল পাম্পের পাশের (নির্মানাধীন) ফ্লাওয়ার মিলসহ দোতালা বাড়ী এবং আমার স্বামীর ব্যবহৃত নোহা প্রাইভেট গাড়ী রয়েছে। যা বর্তমানে জ্যাকি ও তাঁর পরিবার জোর জবর দখল করে একক ভাবে ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেছেন, আমার স্বামীর নামে ঈশ্বরদী জনতা ব্যাংকে একটি কারেন্ট একাউন্ট ছিল যার হিসাব নম্বর “মেসার্স রউফ এন্ড সন্স- ১৭৫০”। জ্যাকি সেখান থেকে সমস্ত টাকা উত্তোলন করে বর্তমানে একাউন্ট বন্ধ করে দিয়ে দাশুড়িয়ার জনতা ব্যাংকে “মেসার্স রউফ এন্ড সন্স” এর নামে নিজে প্রোপাইটর সেজে একটি একাউন্ট খুলেছে । একজন শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে সানজিয়াস রউফ তার ও তার নাবালক সন্তানের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের নিকট ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য ফরিয়াদ জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সানজিয়াস রউফের বাবা গিয়াস উদ্দিন, ভাই ইমতেয়াজ খাঁন সাগর ও তাঁর ছেলে রোফিউল হাসান মেহরাব।

এদিকে এবিষয়ে অভিযুক্ত সামিউল হাসান জ্যাকি জানান, বন্টননামা রেজিষ্টার্ড না হওয়ায় এর আইনগত কোন ভিত্তি নেই। আদালতে ওই সম্পত্তির মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে অভিভাবকত্ব নেয়ার বিরুদ্ধে আমরা ইতোমধ্যেই ২৭/১৯ নম্বর মামলা দায়ের করেছি।

জ্যাকি আরও বলেন, অভিভাবকত্ব আদেশের সাথে সাথে ২০২৯ সালের ২৩ মে সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা প্রপ্তির জন্য আদালতে আবেদন জানালে আদালত তা নামঞ্জুর করে। ওই সম্পত্তি বিক্রির প্রচেষ্টা করা হচ্ছিল বলে জ্যাকি অভিযোগ করেন। সম্পত্তি যাতে বিক্রি করতে না পারে এজন্য নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকীর অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে জ্যাকি বলেন, পেট্রোল পাম্পের মালিকানা নির্ধারণ বিষয়ে পদ্মা ওয়েল কোম্পানী গেল ৭ জানুয়ারি বিএ:আরএন্ডএস-২৩ চিঠির প্রেক্ষিতে গেল ৩১ জানুয়ারী পাম্প বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে মালিকানা নির্ধারণ পূর্বক কোম্পানীর কাছে কাগজ প্রেরণ না করা হলে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করার কথা ছিল। তাই মালিকানা নির্ধারণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পাম্প বন্ধ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অরবিন্দ সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হলেও কোন সুরাহা হয়নি। সামাজিকভাবেও একাধিক বৈঠক হয়েছে। যেহেতু মামলা হয়েছে, সেহেতু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: