ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন

রূপপুর প্রকল্পে রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে

রাশিয়া থেকে ফিরে স্বপন কুমার কুন্ডু
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২০
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কাজ করছেন রাশিয়ান দম্পতি অ্যালেক্স এবং অ্যানা।

রেডিয়েশন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার নভোভরনেঝেতে চলমান ১ হাজার ২০০ ভিভিআর এর মডেলের অনুরূপ দেশের এই প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যেখানে জনস্বাস্থ্য ও জীব বৈচিত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের ১০ ও ১১ ডিসেম্বর নভোভরনেঝে প্রকল্প সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নভোভরনেঝ নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অনেকগুলো গ্রাম রয়েছে। এখানকার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১৯৫৭ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করে। সে সময় এখানে মাত্র ১৫০টি পরিবার বসবাস করতো। এখন সেখানকার জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ৩১ হাজার পরিবার নির্বিঘ্নে বসবাস করছে। ১ কিলোমিটারের মধ্যে চাষাবাদও হচ্ছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে রেডিয়েশনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে কি না সেটা সার্বক্ষণিক পরিমাপ করা হচ্ছে। এখানে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে চারদিকে ৩৩টি সেন্সর বসিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটিরিং করা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকার বাইরে এক কিলােমিটারের মধ্যে জীব বৈচিত্রের ওপর রেডিয়েশন কোনো প্রভাব ফেলছে কি না এজন্য প্রতিনিয়ত ইকোলজিক্যাল রিচার্স করার ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবেশের ওপর নিউক্লিয়ারের রেডিয়েশন প্রভাব ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নভোভরনেঝ তথ্য কেন্দ্রের প্রধান ইউরি জানালেন, রেডিয়েশনের প্রভাব ধরা পড়লে বা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেশি হলে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। যে কারণে এখানে জনস্বাস্থ্য ও জীব বৈচিত্রের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। ৩৩টি সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে কখন- কী অবস্থা উঠে আসছে। এই সংক্রান্ত সকল তথ্য জনসাধারণকে জানানোর জন্য সঙ্গে ওয়েবসাইটে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প এলাকায় বসবাস করে রেডিয়েশন কন্ট্রোল ও লেভেল পরিমাপের কাজে কর্মরত একটি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই প্লান্টে কর্মরত। একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। আ্যানা মস্কো এনার্জি ইনস্টিটিউট হতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এখানে ৫ বছর যাবৎ চাকরি করছেন। স্বামী এ্যালেক্সও ৬ বছর ধরে কর্মরত এবং এই শহরেই জন্মগ্রহন করেছেন।

এ্যালেক্স বলেন, ‘রেডিয়েশন কন্ট্রোলের ব্যবস্থা রয়েছে। ভয়ের কিছু নেই। সাধারণ মানুষ জানে না তাই ভয় পায়। যদি সঠিকভাবে বোঝানো যায় তবে ভয় কেটে যাবে। আ্যানা বলেন, এটি একটি সম্মানজনক চাকরি। ভালোভাবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। তাই এখানে কাজ করে আমি খুশি।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর রেডিয়েশনের তেজস্ক্রীয়তা প্রসংগে বলেন, রেডিয়েশন সেফটির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই রূপপুরের জন্য তৈরি হচ্ছে সর্বাধুনিক মডেলের ভিভিআর ১ হাজার ২০০ প্লান্ট।

এখানে ৩০০ মিটারের মধ্যে মানুষ বসবাস করতে পারবে বলে নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রেডিয়েশনের কারণে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের ওপর কোনরূপ প্রভাব পড়ার আশংকা নেই। নভোভরনেঝের মতো এখানেও রেডিয়েশন পরিমাপের জন্য সেন্সর বসিয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: