ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৩৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ‘গ্যাং কালচারের’ নামে ভয়ংকর হয়ে উঠছে যে কিশোরেরা

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২০
মাথাব্যথা ‘গ্যাং কালচার’। ফাইল ছবি

ঈশ্বরদীর আতঙ্কের আরেক নাম ‘কিশোর গ্যাং’। দিন দিন ভয়ংকর হয়ে ওঠা এ ‘কিশোর গ্যাং’ পুলিশ প্রশাসন ও অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলছে। ইতিমধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে উঠতি বয়সী কিশোরদের এক গ্রুপের সঙ্গে আরেক গ্রুপের রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতের জন্য অন্যতম এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ, রেলওয়ে পাকশী ডিগ্রী কলেজসহ শহরকেন্দ্রিক কলেজ ও স্কুলগুলোতে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি ঢুকে পড়েছে। এসব গ্রুপ নিজেদের দেওয়া নানা বিচিত্র নামে পরিচিত। ওইসব বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী একাধিক ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে ভয়ংকর তৎপরতা চালাচ্ছে। মেসেঞ্জার গ্রুপে তারা বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র কেনা বা সংগ্রহের জন্য বার্তা আদান-প্রদান করছে। গ্রুপ সদস্যরা তাদের রাজনৈতিক বড় ভাইদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় ও স্থান নিয়ে ওই মেসেঞ্জার গ্রুপগুলোতে বার্তা আদান-প্রদান করে। এছাড়া ফেইসবুক গ্রুপ এই পাপী চোখে আমরা ঈশ্বরদীতে যা যা দেখছি, মাফিয়া ডন, ব্যাডবয়, তোর বাপ, খারাপ ছেলে, ইবলিশ শয়তান ও লিপস্টিক রিমুভার এমন নানা নাম এবং বিভিন্ন অ্যাকশন মুভির খলনায়কের চরিত্র ও প্রকাশ করার অযোগ্য নামে উপস্থাপন করছে।

ঈশ্বরদী শহর কেন্দ্রিক সক্রিয় কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যদের জড়ো হতে দেখা যায় সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এলাকায়। সেখানে তাদের আড্ডা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। অন্যদিকে সাঁড়া ঘাট এলাকার শ্মশানঘাটসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মোড়ে ও লোকালয়ে দাঁড়িয়ে ইভটিজিং এবং ধূমপান করতে দেখা যায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের। কিন্তু সব দেখেও ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে না। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী হওয়ায় এদের সবারই বয়স ১৩ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।

এদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, মাদক, নারী, স্ট্যান্ড দখল এবং সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বসহ নানা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ মতো ঘটনা ঘটছে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ দিনমজুরের সন্তান হয়েও হাঁকিয়ে বেড়ায় দামি মোটরসাইকেল।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেন বলেন, সাধারণত উঠতি বয়সের কিশোররা এসব গ্যাং কালচারের সঙ্গে জড়িত। পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুকরণে এসব গ্রুপ গড়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের যথাযথ নজর না দেওয়া ও অবহেলাও ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কিশোর গ্যাং কালচারের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি সাড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আয়নুল ইসলাম বলেন, ‘আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, অতিমাত্রায় ইন্টারনেট আসক্তি, র‌্যাগ ডে কালচার, সামাজিক, পারিবারিক ও নৈতিক অবক্ষয়, হিরোইজম, রোমান্টিসিজম, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব এবং খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ কমে যাওয়াসহ সর্বোপরি সন্তানের গতিবিধির প্রতি অভিভাবকের নজর না থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কিশোরদের ওপর।’

কিশোর গ্যাংগুলোর কার্যকলাপের প্রতি পুলিশ বিশেষ নজর রাখছে বলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফিরোজ কবির জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিশোর গ্যাং একটি নতুন বিষয়। এটিকে শুরুতেই রোধ করতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। জীবনের শুরুতেই কিশোররা যেন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত না হতে পারে সেজন্য অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: