ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা।

ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান প্রকল্পের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমিক ছাটাইয়ের মৌখিক ঘোষণা ও বেতন-ভাতা কম দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার প্রকল্পের অভ্যন্তরে এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ধাওয়া, বিক্ষোভ প্রদর্শন ও বিদেশি দুই কর্মকর্তার সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতি হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে প্রকল্পে ‘নিকিমাত’ এবং ‘ইএসকেএম’ নামে দুটি বিদেশী সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের নিয়ে এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই প্রকল্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যরা ছুটে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্পের অভ্যন্তরে কর্মরত ইএসএকএম’ নামে এ প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শ্রমিকরা জানান, তারা এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক। চুক্তিতে বেশ কিছুদিন যাবত কাজ করে আসছেন। শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দায়িত্ব শেষ করে বাড়ি ফিরতে তাদের রাত ১০টা বেজে যায়। লকডাউন ঘোষণা হওয়ার এত রাতে দুরদুরান্তের জন্য গাড়ি পেতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। একারনে তাঁরা দুপুরের খাবার বিরতির ২ ঘন্টার পরিবর্তে এক ঘন্টা কমিয়ে ছুটির সময় ৭টায় করার দাবি জানায়। শ্রমিকদের এমন প্রস্তাব প্রেক্ষিতে ইএসএকএম প্রতিষ্ঠানের দোভাষী (কর্মকর্তা) ইউছুব সাব্বির তাদের সঙ্গে চরম খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তিনি রুশ কর্মকর্তাকে ডেকে এনে শ্রমিকদের চাকুরী ছাটায়ের হুমকি দেয়।

এরপর মঙ্গলবার শ্রমিকদের জানানো হয়, ‘বুধবার থেকে কাজে আসার দরকার নেই, তোমাদের কাজ ফিনিশ’। আকস্মিক এ ঘোষণায় শ্রমিকদের মধ্যে অসোন্তষ দেখা দেয়। তাঁরা তাঁদের চাকরি ফিরে পাবার দাবিতে প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োজিত সদস্যদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বুধবার শ্রমিকরা কাজে যোগদানের জন্য প্রকল্পের ১নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে কাজের সাইটে গেলেও তাদের কাজে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তারা দীর্ঘ সময় কাজের জন্য অপেক্ষা করে ক্ষোভ জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর থেকে ইএসএকএম কোম্পানির দোভাষী ইউছুব সাব্বির তাঁদের নানা হুমকি ও কোম্পানির রূপ নাগরিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। সামান্য অজুহাতে তাদের ছাটাই করছে। এ বিষয়ে দোভাষী ইউছুব সাব্বির প্রথমে মুখ খুলতে চাননি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যা হবার হয়ে গেছে, কারও এসব শোনার দরকার নেই, আমিও কিছু বলবো না।”

অপরদিকে মাসিক বেতন ভাতাদি কম দেওয়ার অভিযোগে রূপপুর প্রকল্পের আরেকটি সাব-ঠিকাদারি ‘নিকিমাত’ কোম্পানির সহস্রাধিক শ্রমিকরা বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ করে। এসময় নিকিমাত কোম্পানির কর্মকর্তাকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ধাওয়া করে। উত্তেজিত শ্রমিকর এসময় কয়েকটি ঢিল ছুড়লে কক্ষে জানালার কাঁচের ভেঙে যায়।

প্রায় ৩ ঘন্টা পর শ্রমিকদের নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্পের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, হিসাব বিভাগের ভুল অথবা সার্ভার সমস্যার কারনে চলতি মাসে শ্রমিকদের বেতন কম দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বৈঠকে নিরপত্তায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কোম্পানির কর্মকর্তাদের নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেতন ভাতার বাকি টাকা শ্রমিকদের প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, প্রকল্পের শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনকল্পে উপজেলা প্রশাসন, রূপপুর প্রকল্প, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে শ্রমিকদের ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা করে রোববারের মধ্যে সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর