ঢাকা সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন

একের পর এক ছিনতাই, আতঙ্কে ঈশ্বরদীবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৫ জুন, ২০২১
প্রতীকী ছবি

ঈশ্বরদীতে হঠাৎ বেড়েছে ছিনতাই। গত তিন মাসে প্রায় সাতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া বেশির ভাগ ব্যক্তিই থানায় মামলা করেননি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা হলেও পুলিশ ছিনতাইকারীদের একজন কেউ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। খোয়া যাওয়া কোন কিছুও উদ্ধার হয়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে ঘটনা ঘটলেও বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা না করায় পুলিশ জড়িত ব্যক্তিদের সহজে শনাক্ত করতে পারে না।

যদিও একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, ছিনতাইয়ের পর মামলা করতে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে চায় না। অনেকক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের ঘটনাকে চুরি আখ্যা দিয়ে সাধারণ ডায়রি নেয় পুলিশ।

গত ৩০ মার্চ রাত সোয়া নয়টার দিকে উপজেলা সদরের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসান সোহেল ইকবাল আনন্দের স্ত্রী আনিকা হোসেন স্কুলপাড়া এলাকা থেকে নিজের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি কামিনী হেলথ কেয়ার ফাউন্ডেশনে কাছাকাছি পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে এসে তিন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে চাকু ঠেকিয়ে একটি সোনার চেন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়।

আনিকা জানান, খোয়া যাওয়া স্বর্ণের চেন ও কানের দুলের মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।

এর তিনদিন পর গত ২ এপ্রিল বেলা পৌনে বারটার দিকে একই এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম সরদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম হাতব্যাগে করে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে হেঁটে হেঁটে স্থানীয় মুদি দোকানে যাচ্ছিলেন। একই জায়গা থেকে একই কায়দায় ছিনতাইকারীরা তাঁর ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের বাসিন্দা হোসেন আলী। গত ১২ মে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঈশ্বরদী বাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাঝদিয়া স্কুলের দিকে যাচ্ছিলেন। আলী উপজেলার পিয়ারাখালি জান্নাতুল আমান কবরস্থানের দিকে সামান্য গেলেই একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসা তিন ছিনতাইকারী তাঁর গতি রোধ করে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানিব্যাগ থাকা ৮ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরদিন গত ১৩ মে ঈশ্বরদীর স্বনামধন্য সানন্দা বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী ও উদ্যোক্তা সুলতানা জাহান শিমু কাজ শেষ করে দিবাগত গভীর রাতে তাঁর পার্লার থেকে রিক্সা যোগে পশ্চিম টেংরি দরিনারিচার নিজ বাসায় ফিরছিলেন। তাঁকে বহনকারী রিক্সাটি দরিনারিচা পুরাতন চামড়া গুদাম থেকে মহল্লার রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব ওৎ পেতে থাকা দুই ছিনতাইকারী মটরসাইকেল দিয়ে পথরোধ করে তাঁর টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাঁর গলায় ধারালো চাকু ঠেকিয়ে সোয়া দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেন। ভয় পেয়ে শিমু চিৎকার দিলে ছিনতাকারীরা মটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত উপজেলা সড়কের দিকে সটকে পড়ে। ওই রাতেই শিমু স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে বিষয়টি জানায়।

আজ শনিবার সকালে সুলতানা জাহান শিমু বলেন, ‘মামলা করা হলেও সোনার চেন উদ্ধার হয়নি। পুলিশ ধরতে পারেনি একজন ছিনতাইকারীকেও।’

১৪ মে ঈদুল ফিতরের দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছলিমপুরে চরমিরকামারি গ্রামের গোলাম জাকারিয়ার ছেলে আরিফুজ্জামান শিশির তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা তামান্না ও ছেলে নাইমকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন একটি মোটরসাইকেলে। তাদের মোটরসাইকেলটি উপজেলা সদরের আলহাজ্ব মোড়ে পৌঁছলে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ছিনতাইকারী তার স্ত্রী কাছে থাকা একটি হাতব্যাগ টেনে নিয়ে পালিয়ে যায়।

শহরের ভূতেরগাড়ি এলাকার বাসিন্দা আবু কাশেম রাজু জানান, ১৬ মে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন এলাকায় তাঁর মানিব্যাগ ছিনতাইকারীরা ছিনিয়ে নেয়। তিনি ব্যক্তিগত কাজে স্টেশনে এসেছিলেন। এই ঘটনায় তিনি মামলা করেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ঝামেলা এড়াতে মামলা করেননি।

সর্বশেষ ৩ জুন কামিনী হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা একেএম গোলাম হাক্কানীর স্ত্রী নাজমুন নাহার ও মেয়ে ফারহা দিবা রিক্সায় চড়ে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে তিন যুবক মটর সাইকেলে এসে তাদের রিক্সার গতিরোধ করে। এরপর এক যুবক ফারহা দিবার গলায় থাকা স্বণের চেইন জোরপূর্বক খুলে নিয়ে দ্রুত মটর সাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে ঘটে যাওয়া সব কটি ছিনতাইয়ের একই কায়দায়। সবগুলো ছিনতাই এর ঘটনাতেই ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলযোগে মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে । আর এসব ছিনতাই হয় রাতে, না হয় দুপুর বেলা।

ছিনতাইকারীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে নারী। বেশিরভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে পৌর এলাকার বাবুপাড়ায়। তবে সম্প্রতি পুরো শহতজুড়েই চলছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।

ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির। তিনি বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে জেলা পুলিশ হার্ডলাইনে আছে। তবে যেসব ছিনতাইকারীরা অতিতে গ্রেপ্তার হয়েছে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার ছিনতাই শুরু করেছে কিনা সে বিষয়েই খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ আসে না তাই এসব ঘটনা পুলিশের অজানাই থেকে যায়। তবে পত্রিকা মাধ্যমে বা যে মাধ্যমেই হোক পুলিশ খোঁজ পেলে তাৎক্ষণিক ছিনতাইয়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় । সেখান থেকে ছিনতাইয়ের আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা করে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666