ঢাকা রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: করোনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা টেস্ট রিপোর্ট নিতে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ও ইপিজেডে চাকরি প্রার্থীদের বাধ্যতামূলক করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট দাখিলের নিয়ম থাকায় এখানে করোনা টেস্টের হার বেশি। অনেকে অন্য জেলা থেকেও এখানে আসেন শ্রমিক ও কর্মচারী পদে চাকরির জন্য। এ সব চাকরি প্রার্থীদের করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় হাজির হওয়ার আগেই করোনা নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট দাখিল করতে হয়। ফলে অসহায় বেকার যুবকরা ৭০০ টাকা দিয়ে রিপোর্ট নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসমা খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘বাইরের যারা তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেয়, ৭০০ টাকা নয়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ৭০০ টাকা না দিলে রিপোর্ট মেলে না। অথচ রিপোর্ট নিতে কোনো রকম অর্থ নেয়া একেবারেই বেআইনি। শুধু টেস্টের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি সংশ্লিষ্ট ল্যাবে গ্রহণ করা হয়।

ডা. আসমা খান জানান, ২৪ জুলাই পর্যন্ত এখানে মোট দুই হাজার ৫৫ ব্যক্তির করোনার নমুনা সংগ্রহ করে

পাবনার মাধ্যমে রাজশাহী ও ঢাকা থেকে টেস্ট করিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ২১৫ জনের। হিসাব অনুযায়ী, দুই হাজার ৫৫ টেস্টের মধ্যে যদি এক হাজারের কাছেও ৭০০ টাকা করে নেয়া হয় তাহলে তার পরিমাণ ৭ লাখ টাকা। বাকি এক হাজারের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নিলে আরও ২ লাখ টাকা যোগ করে ২৩ জুলাই পর্যন্ত অবৈধ অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজি ইপিআই মো. ইয়ার আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ২৫ জুলাই থেকে নতুন নিয়মানুযায়ী প্রতি নমুনা টেস্টের জন্য ২০০ টাকা করে সংশ্লিষ্ট ল্যাবে জমা দিতে হয়। আমাদের এখান থেকে বেশ কিছু নমুনা এর আগে পাঠানো হলেও ২৯ জুলাই টেস্ট হয়েছে। ফলে এগুলোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে টাকা জমা দিয়েছেন। কারও কাছে চেয়ে নয়, কেউ খুশি হয়ে কিছু টাকা দিলে আমরা নিয়েছি। আমরা করোনার নমুনা সংগ্রহ, পাবনায় নিয়ে যাওয়া ইত্যাদির জন্য যে খরচ হয় তার কিছুই পাই না।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান সহকারী নাজনীন জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৫৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ২১৫ জনের নমুনা পজিটিভ। তিনি বলেন, রিপোর্ট দেয়ার সময় কোনো রকম টাকা নেয়া হয় না।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666