ঢাকা সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিক সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ কর্মকর্তা ডাক্তার আসমা হাসপাতালটি সিলগাল করে দিচ্ছেন।

করোনা টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ ও ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠে রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। এতে পাবনা সিভিল সার্জন বিভাগ এ ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দেন গেল কয়েকদিন আগে। নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যক্রম চালু রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

 

এ বিষয় নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবৈধ এই হাসপাতালটিতে প্রতারণার চিত্র উঠে আসে আবার। এরই আলোকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পাবনা সিভিল সার্জন বিভাগ ক্লিনিক সিলগালা করে দেন।

 

বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আসমা খান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম শামিম জানান হাসপাতালটি সিলগাল করে দেয়।

 

হাসপাতালটিতে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই ইচ্ছামতো ‘নেগেটিভ’, ‘পজিটিভ’ ফল বসিয়ে দেওয়া হতো রোগীদের।

 

অভিযান শুরুর আগেই আসমা খান বলেন, ‘রূপপুর মেডিকেয়ার ক্লিনিক হাসপাতাল পরীক্ষা না করে করোনার রিপোর্ট দেওয়াসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করে আসছিল। সেসবের প্রমাণও আমরা পেয়েছি। পাবনা সিভিল সার্জন বিভাগ সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করে দিয়েছি।

অভিযান দলের সদস্য ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রূপপুরে দেশের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পে প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এখন নিয়ম অনুযায়ী নতুন শ্রমিক কাজে এলে তাঁরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত কি না, তা জানতে পরীক্ষা করাতে হয়। এই সুযোগ রূপপুর মেডিকেয়ার নামের ওই ক্লিনিকটি অনুমোদন ছাড়াই করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা শুরু করে। নমুনা সংগ্রহের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় তাঁবু খাটিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে। প্রকল্পের শ্রমিকেরাসহ আশপাশের লোকজন কিছু না বুঝেই সেখানে নমুনা দিতে শুরু করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ-পজিটিভ প্রতিবেদন দিতে থাকে।

অভিযান দলের প্রধান আসমা খান জানান, ক্লিনিকটি অনুমোদন ছাড়াই করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলায় ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।

অভিযান দলের সদস্য ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রূপপুরে দেশের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পে প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এখন নিয়ম অনুযায়ী নতুন শ্রমিক কাজে এলে তাঁরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত কি না, তা জানতে পরীক্ষা করাতে হয়। এই সুযোগ রূপপুর মেডিকেয়ার নামের ওই ক্লিনিকটি অনুমোদন ছাড়াই করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণা শুরু করে। নমুনা সংগ্রহের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে একটি পরিত্যক্ত ইটভাটায় তাঁবু খাটিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে। প্রকল্পের শ্রমিকেরাসহ আশপাশের লোকজন কিছু না বুঝেই সেখানে নমুনা দিতে শুরু করেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ-পজিটিভ প্রতিবেদন দিতে থাকে।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী জানান, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুলাই ক্লিনিকের মালিক আবদুল ওহাবকে আটক করা হয়। পরে তিনিসহ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ৮ জুলাই মামলা করা হয়েছে। এর পরও ক্লিনিকটি প্রতারণা করে যাচ্ছিল। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় একই মামলায় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব ও সিভিল সার্জন মেহেদী ইকবাল বলেন, অনুমোদন ছাড়া করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও প্রতিবেদন দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। ক্লিনিকটি আইন অমান্য করে এই প্রতারণা করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666