ঢাকা শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে ২৫ টাকা কেজির তরমুজ ৫০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
ঈশ্বরদী বাজারে বিক্রির জন্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে তরমুজ। আকারে বড় ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত এ তরমুজের চাহিদা আছে ক্রেতাদের কাছে। ছবি: প্রতিবেদক

ঈশ্বরদীতে হঠাৎ কয়েকদিন থেকে তরমুজের দাম বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি তরমুজের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

সপ্তাহ খানেক আগে যে তরমুজ বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। এখন সেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। ফলে অতিরিক্ত দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ তরমুজ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশিদামে বিক্রি করায় অনেক সময় ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেট করে তরমুজ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত তরমুজের দাম বাড়িয়েছেন। সরবরাহ থাকলেও সংকটের কথা বলে তরমুজের দাম বেশি নিচ্ছেন তারা। খুরচা বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত দামে তরমুজ সরবরাহ করছেন।

রোজার সময় ইফতারে ফলের চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারা তরমুজের দাম হাঁকাচ্ছেন ইচ্ছেমতো।

এপ্রিলের শুরু থেকে ২০-২২ তারিখ পর্যন্ত তরমুজের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল। এখন তা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। দাম বাড়ায় প্রথম দিকে ৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত হাকা হয়েছি।

স্থানীয় তরমুজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়নি। তাছাড়া চৈত্রে প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করায় বেশি দামের আশায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই মাঠ থেকে তরমুজ তুলে বিক্রি করেছেন কৃষকরা। এতে রাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়েছে। তরমুজ ব্যবসায়ীদের দাবি, এখন আর মাঠে তরমুজ খুবই কম। তাই বাজারেও তরমুজের সরবরাহ কমেছে। একারণে উৎপাদন পর্যায় থেকে পাইকরি ব্যবসায়ী পর্যন্ত তরমুজের দাম বেড়েছে। এছাড়াও লকডাউনের কারণে দেশের বেশির ভাগ তরমুজ উৎপাদিত এলাকা বরগুনা,কুয়াকাটা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরমুজ আসতে পারছে না। এজন্য দাম বেশি।

ঈশ্বরদী শহরের রেলগেট এলাকায় তরমুজ কিনতে আসা এক উন্নয়নকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছর আগেও একটি ছোট আকারের তরমুজের ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মাঝারি আকারের তরমুজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং বড় আকৃতির তরমুজ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। কিন্ত ইদানিং দাম বেড়ে যাওয়ায় একটি ছোট আকারের তরমুজেরই দাম পড়ছে ২৪০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। আর একটা বড় আকারের তরমুজ সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা! তাহলে এত দাম দিয়ে ক’জন মানুষ এই গরমে রসালো তরমুজ কিনতে পারবেন – বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সবুজ হোসেন নামে আরেক ক্রেতা জানান, ১০ দিন আগে ছয় কেজি ওজনের একটি তরমুজ ১৮০ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার তিনি একই ওজনের তরমুজ কিনেন ৩৩০ টাকায়।

ঈশ্বরদী শহরের কয়েকটি তরমুজ বিক্রি এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে, সবধরনের তরমুজের দাম আকাশ চুম্বি। প্রতিটি মাঝারি আকারের তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বড় হলেই তা ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর প্রসংগে ঈশ্বরদী বাজারে তরমুজের এক ব্যবসায়ী বলেন, তাদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। বর্তমানে তরমুজ প্রায় শেষের দিকে। এজন্য সরবরাহ কম। পাইকরি মোকাম থেকেই তাদের বেশিদামে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। এজন্য খুরচা বাজারেও দাম বেশি। মোকামেই তাদের প্রতি কেজি তরমুজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। সেই তরমুজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি না করলে তাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। এখানে তাদের করার কিছু নেই।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর