ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীর ওপর পুলিশের অমানবিক নির্যাতন: ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৯
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনি

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: সারা গায়ে ব্যথা। দুই-তিনজন না ধরলে উঠে বসতেও পারছেন না। এই অবস্থায় মনি (১৫) নামে এক শিক্ষার্থীর। পিটিয়ে বুকের হার ও পা ভেঙে দিয়েছে পুলিশের দুই সদস্য।

রোববার (২৮ এপ্রিল) ঈশ্বরদী থানায় রাতভর আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটান পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রায়হান আলী।

আহত মনি ঈশ্বরদী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও মধ্য অরণকোলা এলাকার মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।  

শুক্রবার (৩ মে) দুপুরে ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাবা কাজী মোস্তাফিজুর রহমান ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ওই দিন (রোববার) তাঁর ছেলে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া শেষ করে। বাড়িতে মশার কয়েল না থাকায় শহরের পোষ্ট অফিস মোড়ে আনতে যান। এ অবস্থায়, পুলিশের ৩-৪ জন সদস্য তাঁর ছেলের দেহ তল্লাশি করে। এরপর বলে, ‘এতো রাতে বাহিরে কেন, তুই কি করিস’ বলেই চড়-থাপ্পড় মেরে থানায় নিয়ে আটক করে। পরবর্তীতে পরিবারের কাছে খবর গেলে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় রাতভর ওই তাঁর ছেলেকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করায় সেখানেই প্রসাব করে ফেলে মনি।

মনিরের চাচা ইরাদ জানান, মনিকে পরদিন সকালে আহত অবস্থায় ছেড়ে দেয় পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মনির অবস্থার অবনতি দেখে ডাক্তার ঢাকায় ভর্তির পরামর্শ দিলে বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে গাজিপুর কালিয়াকৈরের সেবা স্পেশালাইজড হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মনির বুকের হাড়ের জোড়ায় আঘাত লাগে এবং তাঁর ডান পায়ের হাঁড় ফেটে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি রয়েছে মনি।

অভিযুক্ত ঈশ্বরদী পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী জানান, গভীর রাতে ওই ছেলেকে রাস্তায় পেয়ে থানায় রাখা হয়েছিল। পরিবারকে খবর দিয়ে থানায় ডেকে তাঁর বাবার  হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বিষয়টি জানতে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রায়হান আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন তিনি।

সাংবাদিকেরা শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জহুরুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত না। কোনো পুলিশ সদস্য আমাকে অবগত করেননি।’

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর