ঢাকা শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে প্রসূতি মাকে রক্ত দিয়ে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ মে, ২০২১
স্বেচ্ছায় রক্ত দিচ্ছেন এসআই আতিকুল ইসলাম।

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে বদলে গেছে পুরো পৃথিবীর চিত্র। করোনার এই পরিস্থিতিতে নবজাতক কন্যাশিশুর জন্ম দিয়ে ক্লিনিকের শয্যায় রক্তশূন্যতায় কাতরাচ্ছিলেন রুনা খাতুন। ডাক্তার বলছিলেন রক্ত না পেলে বাঁচানো সম্ভব নয়।

প্রিয়জনকে বাঁচাতে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছিলেন স্বজনরা। কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন সময় ঈশ্বরদী থানার টহলরত পুলিশ সদস্যরা আসেন ক্লিনিকের সামনে। তাদের জানানো হয় রক্তের (ও নেগেটিভ) অভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন সদ্য জন্ম দেওয়া এক শিশুর মা।

ঠিক তখনই রক্তদানে এগিয়ে আসেন মানবিক পুলিশ সদস্য রূপপুর পারমাণবিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুল ইসলাম। রোজা রেখেই ওই মাকে রক্ত দান করেন। আর এতেই শারীরিক সুস্থতা ফিরে পান ওই মা।
গৃহবধূর বাবা সোহরাব আলী জানান, আজ শনিবার সকালে বকুলের মোড়ে অবস্থিত শোভন ক্লিনিকে তার মেয়ের সিজার হয়। পরে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে এ ঘটনা ঘটে।

শোভন ক্লিনিকের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম শামিম জানান, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই মুহূর্তে রক্ত না দিলে তাকে বাঁচানো যেতো না।

এসআই আতিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে শিশুটির কথা ভেবে ওই মাকে রক্ত দেই। আল্লাহ এখন মা এবং মেয়েকে সুস্থ রেখেছেন। আমি এতেই খুশি।

তিনি আরও বলেন, আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তখন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধনের সক্রিয় সদস্য ছিলাম। রক্ত দিয়ে যদি কারও জীবন বাঁচাতে পারি—সেই আনন্দটা আমি হাতছাড়া করতে চাইনি। কেননা আমরা বিশ্বাস করি, প্রত্যেক রক্তদাতা দেশ ও জাতির কাছে একেকজন ‘সুপারহিরো! আমরা বলি, ‘রক্ত দিয়ে পেয়েছি স্বাধীনতা, রক্ত দিয়ে বাঁচাব মানবতা।’ তাই তো বাঁধনের স্লোগান—একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর