ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদীতে তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ধর্ষণ

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ জুন, ২০১৯
প্রতীকী ছবি

৬১ বছরের এক বৃদ্ধ কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির পরিবারকে বিগত দুই দিন ধরে দেওয়া হচ্ছিল হুমকি-ধমকি। আর চলছিল মীমাংসার চেষ্টা। কিন্তু সব প্রচেষ্টার মধ্যেই শুক্রবার (৩১ মে) রাতে অবশেষে থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে। মামলা নম্বর ৭৯। মামলাটি দায়ের করেন ভিকটিম শিশুর বাবা জহুরুল আলী। এই ঘটনাগুলো বিগত দুই দিন ধরে ঈশ্বরদী ছলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী (মাথালপাড়া) গ্রামে ঘটে।

মামলার এজাহার, প্রতিবেশী ও জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে প্রতিবেশী মৃত জব্বার আলী ছেলে জিয়াউর রহমান ওরফে আবেদ আলী মাস্টার (৬১) বাদী জহুরুলের বাড়িতে প্রবেশ করে। এই সময় বাড়ির সবাই পাশের লিচু বাগানে কাজ করছিলেন। বাড়িতে ওই শিশু শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে নরপশু আবেদ চকলেট দেওয়ার প্রলোভনে ঘরের মধ্যে নিয়ে মুখ চেপে ধরে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই সময় শিশুটির মা ও মামি বাড়িতে পানি নিতে আসলে মেয়ের গোঙানি শুনে ঘরের মধ্যে গিয়ে আবেদ মাস্টারকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু সুকৌশলে আবেদ মাস্টার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এর পর থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি, ধমকি প্রদান অব্যাহত রাখেন। একই সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য গত শুক্রবার এক সালিস বৈঠক বসানো হয়। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভিকটিমের পরিবারের নির্ভরযোগ্য অন্য একটি সূত্র জানান, এই ঘটনায় মামলা করার জন্য ভিকটিম শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার থানায় যাওয়া হয়। থানা থেকে অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালীদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে ওসির নিকট থেকে সময় নেন। কিন্তু মীমাংসার নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।

ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বাবলু মালিথা গত শুক্রবার বিকেলে মোবাইলফোনে এই প্রতিনিধিকে জানান, বিচারটি ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিল। কিন্তু এই ধরনের জঘন্য ও চরম শাস্তিযোগ্য ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিচার করতে রাজি হইনি। ওই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে শুক্রবার মীমাংসার প্রচেষ্টা করা হয় বলে তিনি শুনেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এত বয়সী একজন বৃদ্ধ এভাবে একটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে পারে, প্রথমে তা বিশ্বাস করতে পারিনি। জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা চালান। কিন্তু সমাধান না হওয়ায় শিশুটির বাবার নিকট থেকে নেওয়া লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর