ঢাকা সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদীতে কঠোর নিরাপত্তায় তাজিয়া মিছিল, মানুষের ঢল

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
ফতেমোহাম্মদপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্নি অনুসারীদের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল বের হয়।

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার দিনটি ধর্মীয়ভাবে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে এ দিনটি বিশেষ পবিত্র দিবস।

আশুরা উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে তাজিয়া মিছিল বের হয়েছে ফতেমহাম্মদপুর এলাকা থেকে। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৪ টার দিকে সুন্নি অনুসারী এই ঐতিহ্যবাহী মিছিলের আয়োজন করে।

মঙ্গলবার দুপুরে দিকে ঘোড়া, কবুতর ও নিশানসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে তাজিয়া মিছিল বের হয় । তাজিয়া মিছিল ওই এলাকার লোক ফুটবল মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে সকাল থেকেই ফতেমোহাম্মদপুর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

ফতেমোহাম্মদপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল আশরাফি জানান, শত বছর ধরে ফতেমোহাম্মদপুরে শোকের মাতম অর্থাৎ তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। কারবালায় ইমাম হোসেনসহ তার পরিবারকে হত্যার মধ্যদিয়ে যে বিষাদময় ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। মিছিলে বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ অংশ নিয়েছে।

তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার কিছুটা ভিন্ন তাজিয়া মিছিল। এ বছর তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ করা হয়।

মিছিলে অংশ নেয়া মোসলেম হোসেন নামে একজন জানান, অন্যান্য বছর মিছিলে পাইকরা অংশ নিত। এতে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হতো। দিনটির শোকার্ততা স্মরণ করে নিজেদের নিজেরাই আঘাত করে জর্জজরিত করত। কিন্তু এবার সেটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই সঙ্গে এবার পাঞ্জাও করা যায়নি। যেটি মিছিলের একটা মূল উপাদান ছিল।

তবে এতে কিছুটা মণক্ষুন্ন হলেও মিছিল উপলক্ষে নেয়া পুলিশের নিরাপত্তার তিনি খুশি।

এদিকে তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে ফতেমোহাম্মদপুর আশেপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নেয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সদা তৎপর ছিলেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিলে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে তবেই ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়। সে কারণে অনেকেরই ভেতরে ঢুকতে দেরি হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল।

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা এ দিনটি পালন করে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর