ঢাকা শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন

অর্ধদিবস হরতালে স্তব্ধ ছিল ঈশ্বরদী

বার্তাকক্ষ
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০১৯
দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল বন্ধ ছিল। সোমবার, ২৯ জুলাই। ঈশ্বরদী রেলগেট। ছবি: ইয়াছিন আরাফাত

মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যা মামলায় জড়িত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার, বিচার ও ফাঁসির দাবিতে ঈশ্বরদীতে সোমবার (৩০ জুলাই) স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়েছে।

ঈশ্বরদীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হয়। গত বুধবার শহরে ‘মুক্তিযোদ্ধা-জনতা’ আয়োজিত এক জনসভায় এই হরতালের ঘোষণা দেন মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যা মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নায়েব আলী বিশ্বাস।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান বিশ্বাস সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিচ্ছেন। ঈশ্বরদী বাজার এলাকার থেকে ছবিটি তুলেছেন ইয়াছিন আরাফাত।

হরতালের সমর্থনে আজ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবস্থান নেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে হরতালকারীরা। হরতালে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনাল থেকে আন্তজেলা রুট ও ঢাকাসহ দূরপাল্লার রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের কোনো দোকানপাট খোলেনি। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন ছিল।

মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয় শহরের রেলগেট ট্রাফিক মোড়ে। এখানে সকাল ছয়টা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন। পথসভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি ফজলুর রহমান ফান্টু, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মণ্ডল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আবদুল খালেক, সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন বিশ্বাস, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হবিবুল ইসলাম, জাসদ নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

পথসভায় বক্তারা বলেন, ঈদের আগে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান হত্যায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার না করা হলে ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

 

মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পাকশীতে তাঁর নিজ বাড়ির ফটকের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ওই রাতেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে তানভীর রহমান বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। আলোচিত এ হত্যা মামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা হত্যার পর থেকে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, রেলওয়ে জংশন স্টেশনে অবস্থান ধর্মঘট, পথসভা, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত এ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের জন্য সম্প্রতি পুলিশের সদর দপ্তর থেকে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের জন্য নির্দেশনা এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্ধারণ হলে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর