ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন

ঈদগাহ নয়, ঈদের নামাজ মসজিদে পড়ার অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০
ফাইল ছবি

ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বিবেচনায় সারাদেশের মুসল্লিদেরও ঈদের জামাত ঈদগাহের পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায়ের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল (অনলাইন) সভা থেকে মুসল্লিদের প্রতি এ অনুরোধ জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রধান ঈদ জামাত বায়তুল মোকাররমে আয়োজনের সিদ্ধান্তও ওই সভা থেকেই জানানো হয়।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতর এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা ভার্চুয়াল এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও সেগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা থেকে জানানো হয়, এ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাণী দেবন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে সরকারি/বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ডে প্রদর্শন করা হবে। ঈদুল আজহার দিবাগত রাতে নির্দিষ্ট সরকারি ভবন ও সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সারাদেশের বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ বা বেসরকারি সংস্থাগুলোর প্রধানরা জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে ঈদুল আজহ উদযাপন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোও যথাযথভাবে ঈদুল আযহা উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ঈদুল আযহা উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধনিবাস ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে।

কোরবানির পশুর রক্ত ও বর্জ্যের মাধ্যমে যেন পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। ঈদুল আজহার আগের জুমার খুতবায় এ বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা ও বিজ্ঞাপনও প্রচার করতে বলা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আনিছুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, তথ্য, জনপ্রশাসন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর সংস্থার প্রতিনিধিরা এ ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের পক্ষে আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলা নুরুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল  আলিম রিজভী, মুফতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানীসহ অন্যরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে তাদের মতামত দেন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666