ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

আইএসের বাংলা পোস্ট ‘শীঘ্রই আসছি…’ উদ্দেশ্য কী?

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৯

শ্রীলঙ্কায় চালানো ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার রেশ না কাটতেই দক্ষিণ এশিয়ার বুকে ফের থাবা বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। নির্দিষ্টভাবে কোনো দেশের কথা উল্লেখ না করলেও (আইএস) এর সমর্থনকারী এক টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত তাদের ‘শীঘ্রই আসছি’ পোস্টটির বরাতে ধারণা করা হচ্ছে, এই পোস্ট দ্বারা বাংলা ভাষাভাষি রাষ্ট্র বাংলাদেশ অথবা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকেই আঙুল তোলা হয়েছে।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা দ্য ডেইলি টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ ধরনের একটি পোস্ট প্রকাশের কথা জানা যায়। তবে এই পোস্টের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিশ্চিত করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশিত সংবাদের বরাতে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত আল মুরসালাত নামক একটি গোষ্ঠীর লোগো সম্বলিত পোস্টারটিতে লেখা রয়েছে, ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ…’। আইএসের সহায়তায় স্থানীয় ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলে জানিয়েছে টাইমস্।

প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, নতুন সদস্য নিয়োগ এবং আত্মগোপনের জন্য জেএমবি সদস্যদের মাঝে-মধ্যেই ভারতের কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত রয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামের এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৮ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের অন্যতম সহযোগী ছিলো এই আরিফুল। এই বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতের আসামের চিরাঙ জেলায় স্থাপিত একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলে জানান এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

এছাড়াও সংবাদে আরও বলা হয়, গত জুলাইয়ে বর্ধমান রেলস্টেশন থেকে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির হাতে গ্রেফেতার আইএস-জেএমবি সদস্য মোহাম্মদ মুসিরুদ্দিন ওরফে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

ওই সময় তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলায় বহুদিন ধরে লুকিয়ে থাকা মুসিরুদ্দিন জানায় যে, ২০১৪ সালের খাগড়াগড়ে জোড়া বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া জেএমবির অন্যতম নেতা আমজাদ শেখের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিলো।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগেও নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় অনুরূপ পোস্টার প্রকাশ ও বিতরণ করেছিলো জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। তবে হলি আর্টিসান হামলার পর বাংলাদেশের সরকার ও প্রশাসনিক পর্যায় থেকে যে নজিরবিহীন তৎপরতা প্রদর্শন করা হয় তা সারা বিশ্বে প্রশংসা লাভ করে।

বাংলাদেশ মাদক, জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র সৃষ্টির যে কোনোও চেষ্টা নস্যাৎ করতে সর্বত্রভাবে প্রস্তুত থাকার কথা আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছে সরকার। সর্বশেষ দেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সপরিবারে হত্যার আরও একটি অপপ্রয়াস নস্যাৎ করে দিয়ে তারই সত্যতা জানান দিয়েছে সরকার ও প্রশাসন।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: