ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

করোনা মোকাবিলায় সার্ক দেশগুলোর বিশেষায়িত তহবিলে ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সার্ক দেশগুলোর বিশেষায়িত ওই তহবিলে শুরুতে ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে ভারত।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সার্ক দেশগুলোর জন্য একটি সমন্বিত কর্মকৌশল ঠিক করতে আজ রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ প্রস্তাব দিয়েছেন।

সার্কের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ওই ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানিসহ সাতটি দেশের নেতারা যুক্ত হন। পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা আলোচনায় অংশ নেন।

সার্কের নেতারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আতঙ্কিত না হয়ে এ অঞ্চলের জন্য সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে রাজি হয়েছেন। তাঁরা সবাই বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ একসঙ্গে কাজ করলে এই ভাইরাস সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে নরেন্দ্র মোদি তাঁর দেশের পরিস্থিতি, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং অভিন্ন কৌশল ঠিক করার বিষয়ে কথা বলেন। এরপর প্রতিটি দেশের নেতারা নিজেদের দেশের পরিস্থিতি এবং করণীয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। এরপর অভিন্ন কৌশল নির্ধারণ ও তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়ে সার্ক নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা একসঙ্গে কাজ করব, একসঙ্গে প্রস্তুতি নেব এবং একসঙ্গে জয়লাভ করব।’ এ সময় তিনি কোভিড-১৯ রোগ মোকাবিলায় ভারতের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

‘স্বাস্থ্যকর পৃথিবীর’ জন্য সময়োপযোগী কার্যকলাপের ওপর জোর দিয়ে মোদি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আমাদের একত্র হওয়া একটি কার্যকর ফলাফলের দিকে যাবে। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা উপকৃত হবেন।’

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় একটি অভিন্ন রূপরেখা তৈরির আহ্বান জানান। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাব অর্থনীতির ওপর আঘাত হেনেছে, যার ফলে মালদ্বীপসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ে রাজাপাকসে করোনাভাইরাসের কারণে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ জন্য অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে সার্ক দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ঠিক করার তাগিদ দেন।

স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন সংস্থা চান শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস এবং এই ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলায় সার্ক দেশগুলোর জন্য একটি সংস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা যেতে পারে। সদস্যদেশগুলো রাজি হলে বাংলাদেশ এই সংস্থা স্থাপনে তৈরি আছে।’

বর্তমান সময়কে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অভিহিত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় আমাদের একে অন্যকে সহায়তা করতে হবে। এ জন্য সার্কের দেশগুলোতে একটি কৌশল ঠিক করা জরুরি। সমষ্টিগতভাবে আমাদের সক্ষমতা, বিশেষজ্ঞ মতামতসহ অন্যান্য বিষয়ে সবচেয়ে ভালো চর্চার বিনিময় করা যেতে পারে।’

শেখ হাসিনা এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সের প্রস্তাব দিয়ে জানান, বাংলাদেশ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য তৈরি আছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সার্ক নেতাদের কাছে তুলে ধরেন।
পরে দ্বিতীয় দফায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা সার্কের অভিন্ন কৌশল বাস্তবায়নে সার্কের মহাসচিবকে ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দেন।

সাড়ে পাঁচ বছর পর প্রথম
প্রসঙ্গত, মাধ্যমটা ভার্চ্যুয়াল হলেও প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের বিরতিতে সার্কের নেতারা এই প্রথমবারের মতো একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনায় অংশ নিলেন। ভারত–নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের উরির কাছে জঙ্গি হামলাকে ঘিরে পাকিস্তান-ভারত দ্বৈরথের কারণে ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। কার্যত এরপর থেকে কোনো রকম আলোচনায় বসছেন না সার্কের শীর্ষ নেতারা। শেষবারের মতো সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালের নভেম্বরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে।

ভারতের প্রস্তাব
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সার্কের বিশেষ তহবিলে সব দেশকে স্বেচ্ছায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে সংক্রমণ ব্যাধি মোকাবিলায় ভারত শুরুতে ১০ মিলিয়ন ডলার দেবে। তহবিলের ব্যবহার কীভাবে হবে তা সার্কের পররাষ্ট্রসচিবেরা ঠিক করবেন।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলোকে সহায়তার জন্য ভারত চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার যন্ত্রপাতি যুক্ত করে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম তৈরি রাখছে। যাতে চাওয়া মাত্র সদস্য দেশের চাহিদা অনুযায়ী সাড়া দেওয়া যায়।

সার্ক নেতাদের ভিডিও কনফারেন্সের ফলোআপ হিসেবে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ এবং এ অঞ্চলের সবচেয়ে ভালো উদাহরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সার্ক দেশগুলোর অর্থনীতি একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই চলাচলের নিষেধাজ্ঞা সার্কের আন্তঃরাষ্ট্রীয় বাণিজ্যে কতটা প্রভাব ফেলেছে তা খুঁজে বের করতে বাণিজ্য কর্মকর্তারা একটি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হবেন।

ভারত বর্ষ জুড়ে জরুরি কাজে যুক্ত থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যে মডেলের ব্যবহার হচ্ছে সার্ক দেশগুলোর জরুরি সাড়াদান কর্মীদের জন্য সে ধরনের অনলাইন ট্রেনিং ক্যাপসুল ব্যবহার করা যায়।
সার্কের সবগুলো সদস্য দেশের ভাষায় তথ্য যুক্ত করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা।

ভারতে রোগের ঝুঁকি নিরূপণের জন্য একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ওই সফটওয়্যারের ব্যবহার এবং তার প্রশিক্ষণ সবগুলো সদস্য দেশগুলোকে দিতে তৈরি আছে ভারত।

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সবচেয়ে ভালো দৃষ্টান্ত চিহ্নিত করে তা জনপ্রিয় করার কাজে ব্যবহার করা হবে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রকে।

ভবিষ্যতে রোগ নির্ণয় ও তার প্রতিরোধে সার্ক দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন গবেষণার প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। এ কাজে সমন্বয় করতে পারে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: