ঢাকা সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:০৮ অপরাহ্ন

কেন ইকুয়েডর অ্যাসাঞ্জের কূটনৈতিক আশ্রয় বাতিল করলো

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯

অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি সংবেদনশীল ও গোপন নথি ফাঁস করে বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়া উইকিলিকসের প্রধান অ্যাসাঞ্জ গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে ২০১২ সালে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অবশেষে সাত বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন পুলিশ অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ইকুয়েডর জানায়, লন্ডনে দূতাবাস থেকে তারা অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে নীতিবিরুদ্ধ আচরণ এবং অন্য দেশের সঙ্গে যোগসাজশ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তোলে দেশটি।

অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে সেন্টার লন্ডনের দূতাবাসে একটি ছোট অফিস রুমে অনেকটা শরণার্থী জীবন যাপন করে যাচ্ছিলেন। সেখানেই তিনি বিছানা বানিয়ে ঘুমাতেন। নিঃসঙ্গ জীবনে তার একমাত্র সঙ্গী ছিল বিড়াল জেমস। রুমটিতে ছিল একটি বিছানা, একটি ল্যাম্প, একটি কম্পিউটার, বাথরুম ও রান্নার ছোট জায়গা।

ইকুয়েডরের সেই দূতাবাসের ব্যালকনি থেকে তার সমর্থক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতেন। আবার অনেকেই রুমটিতে অ্যাসাঞ্জের অতিথি হিসাবে আসতেন। এমনকি মার্কিন গায়িকা লেডি গাগা, হলিউড অভিনেত্রী পামেলা অ্যান্ডারসনও দেখা করতে আসতেন ৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে।

ইকুয়েডরের তটকালীন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া অ্যাসাঞ্জকে নিরাপত্তা দিতে দূতাবাসে আশ্রয় দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট রাফায়েল ছিলেন উইকিলিকসের শক্ত সমর্থক। কিন্তু ২০১৭ সালে দেশটিতে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর সঙ্গে অ্যাসাঞ্জের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না।

দূতাবাসে বসবাস করতে অ্যাসাঞ্জের ওপর কড়া নীতি আরোপ করেন নতুন প্রেসিডেন্ট। ইন্টারনেট ব্যবহার, খাবার এবং লন্ড্রি, বিড়ালের যত্ন সেই সঙ্গে বাথরুম পরিষ্কারের জন্য তাকে খরচ দিতে হবে এমনটা জানিয়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট মোরেনো বলেন, অ্যাসাঞ্জের ‘নিষ্ঠুর ও আক্রমণাত্মক আচরণ’ সরকারের ধৈর্যের সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে।

অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন এবং আশ্রয়কালীন প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তিনি তার কূটনৈতিক আশ্রয় অবসানের ঘোষণা দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ভ্যালেন্সিয়া জানান, অ্যাসাঞ্জ যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন সেটি দূতাবাস অনুমোদিত ছিল না। দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে তিনি খারাপ আচরণ করতেন, এমনকি তাদের যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর বলে সম্বোধন করতেন। অবসর সময় কাটানোর জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া স্ট্যাকবোর্ডও নষ্ট করে ফেলেন তিনি।

তবে ইকুয়েডরের ঋণ মওকুফের টোপ দিয়ে অ্যাসাঞ্জকে বাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তার গ্রেপ্তারের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে ওয়াশিংটন।

উইকিলিকস ও অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর তাকে শেষ পর্যন্ত তুলে দেওয়াও হবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
%d bloggers like this: