ঢাকা শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

বাইডেনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যাত্রা

বিশ্ব সংবাদ
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২১
চরম অস্থিতিশীল সময়ে ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন জো বাইডেন। পাশে ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন। ছবি: রয়টার্স

রাজধানী ওয়াশিংটনের আকাশে নতুন সূর্য। অশান্ত সময় পেরিয়ে প্রশান্ত হওয়ার প্রত্যাশায় পুরো যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের নতুন বাসিন্দা একজন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন সময়ের নায়ক। জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের জন্য ২১ জানুয়ারি নতুন একটি দিন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও দিনটি সংকট-সংশয় পেরিয়ে অবারিত সম্ভাবনার হাতছানির দিন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিভক্তির সময়ে চলমান বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কতোটা এগিয়ে যাবে, কতোটা আবার থমকে দাঁড়াবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।

তবে সময়ের অপেক্ষায় বসে নেই নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট (৭৮) জো বাইডেনের জন্য দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিন ছিল ২০ জানুয়ারি। নজিরবিহীন উত্তেজনা, অস্বাভাবিকতা ও চাপ উপেক্ষা করে ওয়াশিংটনের রাজনীতির চেনা মুখ শুরুর দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গতিপথ ঘুরে দেওয়ার জানান দিয়েছেন। নিয়েছেন নানা সব পদক্ষেপ।

শুধু মাত্র একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত চার বছর বদলে গিয়েছিল, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র বদলেছে ধীরে ধীরে। যে উদার আর সহনশীল পশ্চিমা সমাজের ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে, সে ধারণা থেকে দেশটির মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণগুলো বড় জোরালো। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের এসব কার্যকারণ নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবির্ভাব যেন নাজুক ইতিহাসের এক অনিবার্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এ পরিবর্তনের অগ্রপথিক হয়ে উঠে। ধর্ম, অভিবাসন, একের পর এক যুদ্ধ সারা পৃথিবীর সমাজ মানস বদলে দিয়েছে। আগের দশকে বিশ্বের মানুষের মধ্যে এক বিশ্ব নাগরিকত্ব বোধের যে ঢেউ উঠেছিল, তা থমকে দাঁড়ায়। উল্টো পথে হাঁটতে থাকে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র এই উল্টো হাঁটার অগ্রপথিক হয়ে উঠে।

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতবিক্ষত সমাজে যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এ দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ট্রাম্পকেই নিজেদের শেষ আশ্রয় মনে করেছে। যতই বলা হোক না কেন, রাজনীতির চেনা মাঠ থেকে ট্রাম্প আসেননি। ট্রাম্প কিন্তু রাজনীতির চতুর কাজই করেছেন।

২০১৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা সব ভণিতার খোলস খুলে ফেলে। এক নগ্ন বাস্তবতার নায়ক হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর একের পর এক বেপরোয়া পদক্ষেপ সব হিসাব পাল্টে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এক চলমান অসহিষ্ণু, উদীয়মান রক্ষণশীলতার উত্থানের দেশ হিসেবে দ্রুত পরিচিত পায়। মানবিকারের উদার অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসে। এমন ঘরে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার খলনায়ক হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সারা বিশ্বের কাছেও যুক্তরাষ্ট্র এক ভিন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে দাঁড়ায়। দেশের অভ্যন্তরেও যুক্তরাষ্ট্র হয়ে উঠে অন্য এক যুক্তরাষ্ট্র।

ইতিহাসের চরম অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার একটা প্রয়াস নিয়েছে। যদিও বিভক্তির চূড়ায় দাঁড়িয়ে এমন ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। তা রাজনীতি ও সমাজনীতি যে পর্যায়েও হোক। মার্কিন সমাজের যে বিভক্তি তলানিতে ঠেকেছে, তা একজন প্রেসিডেন্টের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পুরোটাই ঘুরে দাঁড়াবে, এমন প্রত্যাশা ভালো, বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে।

তারপরও অশান্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশান্তির বাণী শুনিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গণতন্ত্র উতরে গেছে, সহনশীলতা আর মানবিকতা ফিরে আসছে, এমন প্রত্যাশার কথা শুধু তিনি উচ্চারণ করেননি। কাজেও দেখিয়েছেন। শুরুর দিনেই কাজে নেমে পড়েছেন। অনেকটাই বিপ্লবী সরকারের মতো মানুষের কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা দমে যাওয়ার আগে একটা ইতিবাচক চেতনায় মার্কিন নাগরিকদের জাগিয়ে তোলার এমন প্রচেষ্টাও নজিরবিহীন।

মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ মাসে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একজন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হাল ধরেছেন। ইতিহাসকে ধারণ করে একজন কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।

২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের প্রস্থানের পর নতুন বাসিন্দা হিসেবে হোয়াইট হাউসে ঢুকেছেন জো বাইডেন। ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে প্রথম রাত কাটিয়েছেন তিনি। ২০ জানুয়ারি রাতে হোয়াইট হাউসের প্রথম রাতের বাসিন্দা হিসেবে ফার্স্ট লেডি টুইটারে হোয়াইট হাউসের একটি ভিডিওচিত্র দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল দুপুরে শপথ গ্রহণ করার পর বাইডেন দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতায় কাটান। পূর্বসূরি তিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আর্লিংটন জাতীয় সমাধিস্থলে সস্ত্রীক যান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্যের ক্ষেত্রে অন্যতম এই স্থাপনায় দাঁড়িয়ে সামরিক বাহিনীর দেওয়া স্যালুট গ্রহণ করা ছাড়াও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ডাকা প্রথম কনফারেন্সে বাইডেন নিজ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি অনেক ভুল করব। যখন ভুল করব, তখন তা আমি স্বীকার করব। ভুল সংশোধনে সাহায্য করার জন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

বাইডেন তাঁর প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া কর্মীদের ভার্চ্যুয়াল শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছ থেকে সততা ও শালীনতা চাই। আমাদের মনে রাখতে হবে, জনগণ আমাদের জন্য কাজ করে না। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।’

ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় বিকেল চারটার কিছু আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে ঢোকেন জো বাইডেন। হোয়াইট হাউসের কাছেই ট্রেজারি বিভাগের অফিস ভবনের সামনে বাইডেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। বাইডেন স্ত্রী জিলের হাত ধরে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে হোয়াইট হাউসে ঢোকার জন্য হাঁটতে থাকেন।

কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যেও দূর থেকে লোকজনকে হাত নেড়ে বাইডেন দম্পতিকে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়। বাইডেন ও জিলের পেছনে তখন হাঁটছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ সময় মুহূর্তের জন্য থামেন তিনি। এনবিসি নিউজের সাংবাদিক আল-রকারের সঙ্গে তাঁকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বাইডেন চলে যান এনবিসি নিউজের সাংবাদিক মাইক মেমলির সামনে। মাইক জানতে চান, কেমন লাগছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমি বাড়িতেই ঢুকছি।’

হোয়াইট হাউসে ঢুকে পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা পাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ থেকে শুরু করে কোনো আনুষ্ঠানিকতায় ট্রাম্পের নাম উচ্চারিত হয়নি। ট্রাম্প যেমন বাইডেনের নাম মুখে নেননি, বাইডেনও তাঁর নাম মুখে আনেননি।

হোয়াইট হাউসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আজ নষ্ট করার সময় নেই। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই কাজ কাজ শুরু করতে হবে।

ট্রাম্পের মুখপাত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলেছে, প্রথা অনুযায়ী ট্রাম্প ওভাল অফিসের ড্রয়ারে উত্তরসূরি প্রেসিডেন্টের জন্য নোট লিখে গেছেন। এই নোটে কী আছে, তা জানা যায়নি। বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট সম্বোধন করে আদৌ কী লেখা হয়েছে, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

ট্রাম্প কখনো স্বীকার করেননি, নির্বাচনে বাইডেন জিতেছেন। ৬ জানুয়ারি তাঁর আহ্বানে ক্যাপিটল হিলে সমর্থকদের তাণ্ডবের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ২০ জানুয়ারি ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে। তবে এর আগে ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল।

হোয়াইট হাউসে বাইডেন ক্যামেরার সামনেই সব ফেডারেল স্থাপনায় সবাইকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। প্রথম কর্মদিবসেই ১৭টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন বাইডেন। অভিবাসনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থা সংস্কারে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পৃথক নির্বাহী আদেশে মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে লোকজনের ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাইডেন আগেই বলেছেন, করোনা মহামারির সংক্রমণ থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর উদ্যোগই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তিতে আবার ফিরে যাওয়ার নির্দেশেও স্বাক্ষর করেছেন বাইডেন। শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় ২০১৫ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করা চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দিনের নির্বাহী আদেশেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু সমস্যা নিয়ে গত চার বছরের নীতিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে।

নির্বাহী আদেশে অপ্রাপ্ত বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসা কয়েক লাখ অভিবাসীকে বিতাড়িত করা বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চালু করা ডাকা কর্মসূচি নামের এ অভিবাসন কর্মসূচি বন্ধ করার নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখন বাইডেনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কর্মসূচিটি আবার চালু হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাস করার পথ উন্মুক্ত হলো।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই বাইডেন অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের সহযোগিতায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তাঁর প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, এমন প্রণোদনা আইন পাসে দ্বিদলীয় সমঝোতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে বিরোধিতা এলে সব ধরনের বিকল্প ভাবনায় আছে।

কংগ্রেস ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এ ধরনের আইন প্রস্তাবের জন্য সিনেটে ৬০টি ভোটের প্রয়োজন। রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া সিনেটে এমন আইন প্রস্তাব করার জন্য এত ভোট নেই। যদিও সিনেটে প্রবীণ ডেমোক্র্যাট ও বাজেট কমিটির প্রধান বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির কথা তাঁরা শুনবেন। তবে জনগণকে সাহায্যের জন্য মাসের পর মাস এ নিয়ে ব্যয় করা হবে না। সিনেটের রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ায় ৫১ ভোটেও এমন আইন প্রস্তাব পাস করার সুযোগ আছে বলে বার্নি স্যান্ডার্স স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও রাজনীতি একটা ঝাঁকুনিতে পড়েছে। যে দেশটি চলমান সভ্যতায় নিজেদের উদারতা ও শক্তিমত্তা দিয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, সেই শ্রেষ্ঠত্বের পথে কতোটা এগিয়ে যাবে, তা এখনই হয়তো বলা যাবে না। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর শপথ গ্রহণের বক্তৃতায় বলেছেন, উদাহরণের শক্তি দিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।

এই শ্রেষ্ঠত্ব দেখার প্রত্যাশা যেমন সারা বিশ্বের, দেশের বিভক্ত সমাজের সব ক্ষত থেকে বের করে আনার ঐতিহাসিক দায়টাও পড়েছে বাইডেন-কমলার হাতে।

রাজধানী ওয়াশিংটনের আকাশে নতুন সূর্য। অশান্ত সময় পেরিয়ে প্রশান্ত হওয়ার প্রত্যাশায় পুরো যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের নতুন বাসিন্দা একজন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন সময়ের নায়ক। জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের জন্য ২১ জানুয়ারি নতুন একটি দিন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও দিনটি সংকট-সংশয় পেরিয়ে অবারিত সম্ভাবনার হাতছানির দিন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিভক্তির সময়ে চলমান বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কতোটা এগিয়ে যাবে, কতোটা আবার থমকে দাঁড়াবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।

তবে সময়ের অপেক্ষায় বসে নেই নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট (৭৮) জো বাইডেনের জন্য দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিন ছিল ২০ জানুয়ারি। নজিরবিহীন উত্তেজনা, অস্বাভাবিকতা ও চাপ উপেক্ষা করে ওয়াশিংটনের রাজনীতির চেনা মুখ শুরুর দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গতিপথ ঘুরে দেওয়ার জানান দিয়েছেন। নিয়েছেন নানা সব পদক্ষেপ।

শুধু মাত্র একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত চার বছর বদলে গিয়েছিল, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র বদলেছে ধীরে ধীরে। যে উদার আর সহনশীল পশ্চিমা সমাজের ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে, সে ধারণা থেকে দেশটির মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণগুলো বড় জোরালো। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের এসব কার্যকারণ নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবির্ভাব যেন নাজুক ইতিহাসের এক অনিবার্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এ পরিবর্তনের অগ্রপথিক হয়ে উঠে। ধর্ম, অভিবাসন, একের পর এক যুদ্ধ সারা পৃথিবীর সমাজ মানস বদলে দিয়েছে। আগের দশকে বিশ্বের মানুষের মধ্যে এক বিশ্ব নাগরিকত্ব বোধের যে ঢেউ উঠেছিল, তা থমকে দাঁড়ায়। উল্টো পথে হাঁটতে থাকে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র এই উল্টো হাঁটার অগ্রপথিক হয়ে উঠে।

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতবিক্ষত সমাজে যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এ দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ট্রাম্পকেই নিজেদের শেষ আশ্রয় মনে করেছে। যতই বলা হোক না কেন, রাজনীতির চেনা মাঠ থেকে ট্রাম্প আসেননি। ট্রাম্প কিন্তু রাজনীতির চতুর কাজই করেছেন।

২০১৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা সব ভণিতার খোলস খুলে ফেলে। এক নগ্ন বাস্তবতার নায়ক হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর একের পর এক বেপরোয়া পদক্ষেপ সব হিসাব পাল্টে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এক চলমান অসহিষ্ণু, উদীয়মান রক্ষণশীলতার উত্থানের দেশ হিসেবে দ্রুত পরিচিত পায়। মানবিকারের উদার অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসে। এমন ঘরে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার খলনায়ক হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সারা বিশ্বের কাছেও যুক্তরাষ্ট্র এক ভিন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে দাঁড়ায়। দেশের অভ্যন্তরেও যুক্তরাষ্ট্র হয়ে উঠে অন্য এক যুক্তরাষ্ট্র।

ইতিহাসের চরম অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার একটা প্রয়াস নিয়েছে। যদিও বিভক্তির চূড়ায় দাঁড়িয়ে এমন ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। তা রাজনীতি ও সমাজনীতি যে পর্যায়েও হোক। মার্কিন সমাজের যে বিভক্তি তলানিতে ঠেকেছে, তা একজন প্রেসিডেন্টের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পুরোটাই ঘুরে দাঁড়াবে, এমন প্রত্যাশা ভালো, বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে।

তারপরও অশান্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশান্তির বাণী শুনিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গণতন্ত্র উতরে গেছে, সহনশীলতা আর মানবিকতা ফিরে আসছে, এমন প্রত্যাশার কথা শুধু তিনি উচ্চারণ করেননি। কাজেও দেখিয়েছেন। শুরুর দিনেই কাজে নেমে পড়েছেন। অনেকটাই বিপ্লবী সরকারের মতো মানুষের কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা দমে যাওয়ার আগে একটা ইতিবাচক চেতনায় মার্কিন নাগরিকদের জাগিয়ে তোলার এমন প্রচেষ্টাও নজিরবিহীন।

মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ মাসে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একজন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হাল ধরেছেন। ইতিহাসকে ধারণ করে একজন কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।

২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের প্রস্থানের পর নতুন বাসিন্দা হিসেবে হোয়াইট হাউসে ঢুকেছেন জো বাইডেন। ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে প্রথম রাত কাটিয়েছেন তিনি। ২০ জানুয়ারি রাতে হোয়াইট হাউসের প্রথম রাতের বাসিন্দা হিসেবে ফার্স্ট লেডি টুইটারে হোয়াইট হাউসের একটি ভিডিওচিত্র দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে গতকাল দুপুরে শপথ গ্রহণ করার পর বাইডেন দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতায় কাটান। পূর্বসূরি তিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বিল ক্লিনটন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আর্লিংটন জাতীয় সমাধিস্থলে সস্ত্রীক যান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ঐক্যের ক্ষেত্রে অন্যতম এই স্থাপনায় দাঁড়িয়ে সামরিক বাহিনীর দেওয়া স্যালুট গ্রহণ করা ছাড়াও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ডাকা প্রথম কনফারেন্সে বাইডেন নিজ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি অনেক ভুল করব। যখন ভুল করব, তখন তা আমি স্বীকার করব। ভুল সংশোধনে সাহায্য করার জন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

বাইডেন তাঁর প্রশাসনে নিয়োগ দেওয়া কর্মীদের ভার্চ্যুয়াল শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছ থেকে সততা ও শালীনতা চাই। আমাদের মনে রাখতে হবে, জনগণ আমাদের জন্য কাজ করে না। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।’

ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় বিকেল চারটার কিছু আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউসে ঢোকেন জো বাইডেন। হোয়াইট হাউসের কাছেই ট্রেজারি বিভাগের অফিস ভবনের সামনে বাইডেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। বাইডেন স্ত্রী জিলের হাত ধরে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ দিয়ে হোয়াইট হাউসে ঢোকার জন্য হাঁটতে থাকেন।

কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যেও দূর থেকে লোকজনকে হাত নেড়ে বাইডেন দম্পতিকে অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়। বাইডেন ও জিলের পেছনে তখন হাঁটছিলেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। এ সময় মুহূর্তের জন্য থামেন তিনি। এনবিসি নিউজের সাংবাদিক আল-রকারের সঙ্গে তাঁকে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে বাইডেন চলে যান এনবিসি নিউজের সাংবাদিক মাইক মেমলির সামনে। মাইক জানতে চান, কেমন লাগছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমি বাড়িতেই ঢুকছি।’

হোয়াইট হাউসে ঢুকে পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা পাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের। ২০ জানুয়ারি বাইডেনের শপথ থেকে শুরু করে কোনো আনুষ্ঠানিকতায় ট্রাম্পের নাম উচ্চারিত হয়নি। ট্রাম্প যেমন বাইডেনের নাম মুখে নেননি, বাইডেনও তাঁর নাম মুখে আনেননি।

হোয়াইট হাউসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আজ নষ্ট করার সময় নেই। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম দিন থেকেই কাজ কাজ শুরু করতে হবে।

ট্রাম্পের মুখপাত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলেছে, প্রথা অনুযায়ী ট্রাম্প ওভাল অফিসের ড্রয়ারে উত্তরসূরি প্রেসিডেন্টের জন্য নোট লিখে গেছেন। এই নোটে কী আছে, তা জানা যায়নি। বাইডেনকে প্রেসিডেন্ট সম্বোধন করে আদৌ কী লেখা হয়েছে, এ নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

ট্রাম্প কখনো স্বীকার করেননি, নির্বাচনে বাইডেন জিতেছেন। ৬ জানুয়ারি তাঁর আহ্বানে ক্যাপিটল হিলে সমর্থকদের তাণ্ডবের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ২০ জানুয়ারি ক্ষমতার পালাবদল ঘটবে। তবে এর আগে ট্রাম্প শান্তিপূর্ণভাবে হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল।

হোয়াইট হাউসে বাইডেন ক্যামেরার সামনেই সব ফেডারেল স্থাপনায় সবাইকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্বাহী আদেশ জারি করেন। প্রথম কর্মদিবসেই ১৭টি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন বাইডেন। অভিবাসনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসনব্যবস্থা সংস্কারে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পৃথক নির্বাহী আদেশে মুসলিমপ্রধান দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে লোকজনের ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরই মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বাইডেন আগেই বলেছেন, করোনা মহামারির সংক্রমণ থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর উদ্যোগই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তিতে আবার ফিরে যাওয়ার নির্দেশেও স্বাক্ষর করেছেন বাইডেন। শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবিলায় ২০১৫ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের করা চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দিনের নির্বাহী আদেশেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু সমস্যা নিয়ে গত চার বছরের নীতিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্যারিস চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে।

নির্বাহী আদেশে অপ্রাপ্ত বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসা কয়েক লাখ অভিবাসীকে বিতাড়িত করা বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার চালু করা ডাকা কর্মসূচি নামের এ অভিবাসন কর্মসূচি বন্ধ করার নির্বাহী আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখন বাইডেনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কর্মসূচিটি আবার চালু হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক লাখ অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাস করার পথ উন্মুক্ত হলো।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই বাইডেন অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের সহযোগিতায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তাঁর প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, এমন প্রণোদনা আইন পাসে দ্বিদলীয় সমঝোতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে বিরোধিতা এলে সব ধরনের বিকল্প ভাবনায় আছে।

কংগ্রেস ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এ ধরনের আইন প্রস্তাবের জন্য সিনেটে ৬০টি ভোটের প্রয়োজন। রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া সিনেটে এমন আইন প্রস্তাব করার জন্য এত ভোট নেই। যদিও সিনেটে প্রবীণ ডেমোক্র্যাট ও বাজেট কমিটির প্রধান বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির কথা তাঁরা শুনবেন। তবে জনগণকে সাহায্যের জন্য মাসের পর মাস এ নিয়ে ব্যয় করা হবে না। সিনেটের রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ায় ৫১ ভোটেও এমন আইন প্রস্তাব পাস করার সুযোগ আছে বলে বার্নি স্যান্ডার্স স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও রাজনীতি একটা ঝাঁকুনিতে পড়েছে। যে দেশটি চলমান সভ্যতায় নিজেদের উদারতা ও শক্তিমত্তা দিয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, সেই শ্রেষ্ঠত্বের পথে কতোটা এগিয়ে যাবে, তা এখনই হয়তো বলা যাবে না। তবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর শপথ গ্রহণের বক্তৃতায় বলেছেন, উদাহরণের শক্তি দিয়েই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।

এই শ্রেষ্ঠত্ব দেখার প্রত্যাশা যেমন সারা বিশ্বের, দেশের বিভক্ত সমাজের সব ক্ষত থেকে বের করে আনার ঐতিহাসিক দায়টাও পড়েছে বাইডেন-কমলার হাতে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666