ঢাকা রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

কেন আমাদের অ্যাসাঞ্জের পক্ষে দাঁড়াতে হবে: স্লাভো জিজেক

ঈশ্বরদীনিউজ২৪.নেট, প্রতিবেদন
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৯
গ্রেপ্তারের পর জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ

 

শেষ পর্যন্ত ঘটনাটা ঘটলই- জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে টেনেহিঁচড়ে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের করা হলো এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, এটা যে ঘটবে তা আগে থেকেই লক্ষণে বুঝা যাচ্ছিল।

এক কী দুই সপ্তাহ আগে, উইকিলিকস জানিয়েছিল এ গ্রেপ্তার হতে পারে, তবে ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল। সম্প্রতি চেলসি ম্যানিঙকে আবার গ্রেপ্তার (গণমাধ্যমে এ বিষয়টি আসেইনি বলতে গেলে) এ খেলার একটি অংশ ছিল। ওই নারীকে কারাগারে নেয়া হয়েছে তার কাছ থেকে উইকিলিকস বিষয়ে তথ্য আদায় করতে, আর এসব তথ্য যখন যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জকে (যদি পায়) তাদের হাতে পাবে তখন তার বিচারের সময় কাজে লাগাবে। 

এ ছাড়া মাসকয়েক আগে থেকেই আরো সূত্র আমাদের সামনে হাজির করা হয়, যখন খুব ঠাণ্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে  চারিত্রিক দিক দিয়ে কাউকে খতম করে দেওয়ার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছিল কোনো অপিরিচিত সূত্র থেকে, যা ছিল খুব নীচু মানসিকতার যে, ইকুয়েডর তার কাছ থেকে নিস্তার চায়, কারণ তার শরীর থেকে কটূ গন্ধ বের হচ্ছে এবং গায়ের পোশাক নোংরা। 

অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে প্রথম হামলা চালানো হলো তার সাবেক বন্ধু এবং সহযোগীদের দিক থেকে যারা প্রকাশ্যে এসে ঘোষণা দিল যে, উইকিলিকস খুব ভালো কিন্তু এরপর এটি অ্যসাঞ্জের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান দ্বারা (তার হিলারিবোধী মানসিকতা এবং রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের সন্দেহ) তাড়িত হতে থাক। এটা এরপর পর্যবসিত হতে থাকল ব্যক্তিগত চরিত্রহননের দিকে, বলা হতে থাকল সে বিকারগ্রস্ত এবং অহংকারী, ক্ষমতার কাঙাল।     

অ্যাসাঞ্জ কি বিকারগ্রস্ত? যখন আপনি এমন একটি অ্যাপার্টমেন্টে বাস করবেন যার ওপর এবং নিচ হতে তদারকি করা হবে, আপনি গোপন সংস্থার লাগাতার পর্যবেক্ষণের শিকার হবেন, কে তখন তার মতো হবে না?  

ক্ষমতার কাঙাল? তখনকার (বর্তমানে সাবেক) সিআইএ প্রধান বলেছিল তাকে গ্রেপ্তার আমাদের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তার মানে কি এই নয় যে সে কারু না কারুর জন্য একটা বড় হুমকি? একটা গোয়েন্দা সংস্থার সর্বোচ্চ ব্যক্তির আচরণে কি তাই মনে হয় না? যদিও উইকিলিকস নিজেও একটা গোয়েন্দা সংস্থা যা জনগণকে পর্দার আড়ালে সংঘটিত গোপন তথ্য সরবরাহ করে।

এবার সবচেয়ে বড় প্রশ্নটার দিকে যাওয়া যাক, কেন এখন? আমার মনে হয় একটা নামই সবকিছু ব্যাখ্যার জন্য যথেষ্ট হবে, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা- এটি, অ্যাসাঞ্জ যার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, যার জন্য সে লড়াই করেছিল, সরকারি সংস্থা এবং বড় বেসরকারি সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদানের বিরুদ্ধে, তাতে যুক্ত একটি নাম। 

মনে করে দেখুন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়া প্রভাব বিস্তার করেছিল এমন অভিযোগ নিয়ে কী পরিমাণ মাতামাতি হয়েছিল- কিন্তু এখন দেখা গেল এটা রাশিয়ার হ্যাকাররা (অ্যাসাঞ্জের সহযোগিতায়) করেনি, যে তারা ট্রাম্পের পক্ষে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চেয়েছিল। 

বাকি অংশ শনিবার

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডট কো ডট ইউকে থেকে অনুবাদ সালাদ উদ্দিন শুভ্র

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666