ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

‘অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম’!

মুসাব্বির হুসাইন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৯

২৬ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে বছরের বহু প্রতীক্ষিত একটি মুভি। সুপার হিরোদের এক মেলা যেন অ্যাভেঞ্জারস। মার্ভেলের অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম। ভক্তদের অনেকেই তো মুভির সঙ্গে মিল রেখে এটিকে অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম–এর মাস বলে ঘোষণা দিয়ে ফেলেছেন।

কিন্তু সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দও পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, ২০০৮–এ মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের আয়রন ম্যান দিয়ে শুরু হওয়া ছোট্ট ছোট্ট গল্পগুলোর ইতি টানতে চলেছে এই মুভির মধ্য দিয়ে। সম্পূর্ণ কাহিনির ভাঙা ভাঙা টুকরোগুলোই জোড়া লাগবে এখানে। সে জন্যই বোধ হয় দর্শকমহলে এত আলোচনা। জল্পনাকল্পনা। কী হবে আসলে এন্ডগেম–এ?

পূর্বঘটনা

যারা অ্যাভেঞ্জারস: ইনফিনিটি ওয়ার দেখে ফেলেছ, তারা তো বুঝতেই পারছ এবারের ঘটনা কী নিয়ে এগোবে। সব ঝামেলার মূলে আছে সুপার ভিলেন থানোস। মহাবিশ্বে ৬টি ইনফিনিটি স্টোনের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে থানোস। ধ্বংস করতে থাকে একটির পর একটি ইউনিভার্স। সর্বশেষ গন্তব্য পৃথিবী। আর সেই থানোসকেই মোকাবিলা করতে উঠেপড়ে লাগে সুপার হিরোদের দল। যাদের বলা হয় ‘অ্যাভেঞ্জারস’। যারা দেখোনি, ২৬ এপ্রিলের আগেই এক ফাঁকে দেখে নিতে পারো মুভিটি।

‘অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম’–এর জনপ্রিয়তার কারণ

মার্ভেলের সুপার হিরোদের জীবনও অন্য পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো। যে কারণেই অন্য সুপার হিরোদের চেয়ে ক্যাপ্টেন আমেরিকারা আলাদা। তাদেরও আছে আবেগ, ভালোবাসা একটা সাধারণ জীবন। তারা শুধু সুপার ভিলেনদের মোকাবিলা করে, তা–ই নয়। ব্যক্তিগত জীবনেও অন্যদের মতোই যুদ্ধ করে চলতে হয়। ভক্তদের মনে হয়তো অ্যাভেঞ্জারস–এর চরিত্রগুলো সহানুভূতির বড় একটি স্থান দখল করে নিয়েছে সে জন্যই।

সে রকম এক–দুজন নয়, বরং ডজনখানেক সুপার হিরোকে নিয়ে একই কাতারে দাঁড়িয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে দেখলে কেমন লাগা উচিত? তা শুধু অ্যাভেঞ্জারস ভক্তরাই বলতে পারবেন এখন। একসঙ্গে এত সুপার হিরোর উপস্থিতি দর্শকদের জন্য সত্যিই বড় পাওয়া।

এন্ডগেম–এর প্রায় প্রতিটি আলাদা আলাদা চরিত্রকে নিয়েই রয়েছে জনপ্রিয় সব মুভি। ক্যাপ্টেন আমেরিকা, আয়রন ম্যান, স্পাইডার ম্যান, হাল্ক, থরের মতো সব চরিত্রেরই বিশেষ ভক্তের সংখ্যাও কম না কিন্তু! তাদের জন্যও এই মুভি একটি বড় ধরনের উপহার হতে যাচ্ছে।

ইনফিনিটি ওয়ার শেষ হয়েও হয়নি! কারণ, থানোসের এক চুটকির পরে কী হলো, সেটা কেউ জানে না ঠিকঠাক। তারা অদৌ ফিরবে কি না, সেই প্রশ্নও মনে আসা স্বাভাবিক। সঙ্গে এন্ডগেম–এর ট্রেইলার তো আছেই। মানুষের মনে সৃষ্টি হয়েছে নানা রকম প্রশ্নের। সেসবের উত্তর মিলবে শুধু এন্ডগেমএ, এ কারণে দর্শকদের এখন বিমুখ হয়ে তাকিয়ে থাকাটায় স্বাভাবিক।

১০ বছর আগেও কেউ আজকের দিনটির কথা ভাবতে পারেনি। মার্ভেল সবাইকে ভুল প্রমাণ করে মুক্তি দিয়ে গেছে একটির পর একটি মুভির। আর সেই স্বর্ণযুগের সমাপ্তির ধামাকার জন্যই সবার মনে শত জল্পনাকল্পনা।

হয়তো এটাই অ্যাভেঞ্জারস’–এর শেষ মুভি। রবার্ট ডাওনি জুনিয়র শেষবারের মতো পরবেন আয়রন ম্যানের স্যুট। আরেকবার ক্রিস ইভানস তুলে নেবেন তার ঢালটি। থরের স্টর্মব্রেকার গর্জে উঠবে শেষ যুদ্ধের জন্য। গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সির স্টার লর্ড ক্রিস প্র্যাটের ফাইটিং ডান্সও আর দেখা যাবে কি না, সেটি এখন প্রশ্ন। লকির ভিলেনগিরি করার শত চেষ্টাও হয়তো আর সফল হবে না। নিক ফিউরির বিড়ালে খামচানো নষ্ট চোখ, হকআইর নির্ভুল তির ছোড়া, হাল্কের রেগে সবুজ হওয়াও আর দেখা যাবে না হয়তো। কারণ, এদের মার্ভেলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গেছে। যে অভিনেতারা দর্শকদের এত দিন আনন্দ দিয়ে গেছেন, ভক্তদের সঙ্গেও তাঁদের সৃষ্টি হয়েছে এক আবেগের সম্পর্ক। এ জন্য দর্শকেরাও চান এই শেষ যুদ্ধের সাক্ষী হয়ে থাকতে!

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666