ঢাকা সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

সংকটের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনা

তপন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
তপন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস

কোনো সংকটের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে যারা কাজে লাগাতে পারে, সংকট উত্তরণ ও টিকে থাকার কাজটি তাদের জন্য সহজ হয়। গত বছরের ধাক্কা কাটিয়ে আবার যখন সবকিছু একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছিল, তখনই করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা হানা দিল। অবশ্য প্রথমবারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সরকার শিল্প, কলকারখানা সচল রেখেছে। তাতে এবারের বিধিনিষেধের কারণে বড় বড় শিল্প, কলকারখানার বড় ধরনের ক্ষতির খুব বেশি শঙ্কা নেই। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কিছু উদ্যোক্তা, কিছু ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের উচিত তাদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া। কীভাবে ছোট ছোট উদ্যোক্তার কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, তার পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমি মনে করি, এসব উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনে এককালীন কিছু আর্থিক সহায়তাও সরকার করতে পারে। তাতে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে বলে আমার মনে হয় না। আমাদের দেশে অনেক ব্যবসা আছে পালা-পার্বণকেন্দ্রিক। করোনার কারণে এবারও তাদের ব্যবসার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বড়দের পাশাপাশি তাদেরও বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

করোনা-পরবর্তী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যে পোশাক, বস্ত্র খাত খাদ্য সামগ্রী ও ওষুধের ব্যবসা বেশ ভালো করবে বলেই আমার মনে হয়। এ কারণে এসব খাতে এ করোনার মধ্যেও আমরা নতুন করে দেড় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। গ্রাহক ও ভোক্তার কাছ থেকে চাহিদা বাড়তে থাকায় নতুন এ বিনিয়োগ করা হয়েছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে করোনাকালে যেকোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত আমরা খুব দ্রুত গ্রহণ করতে পারছি। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে ঘরে বসেই এখন জরুরি সভা করা যাচ্ছে। আগে দেখা যেত, আমাদের সাপ্তাহিক ছুটি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সপ্তাহে তিন দিন কোনো ব্যবসায়িক কাজ হতো না। কিন্তু এখন হোম অফিস হওয়ায় সপ্তাহজুড়েই কাজ হচ্ছে। সবাই এ পরিবর্তনের সঙ্গে এরই মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছে। করোনা না এলে অনলাইনের এ সুবিধার সঙ্গে হয়তো আমরা অভ্যস্ত হতে পারতাম না। আমি মনে করি, এ সংকটকালে আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি বড় অর্জন।

বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে যতটা জেনেছি, প্রথমবারের অভিজ্ঞতার কারণে এবার শিল্প, কলকারখানায় সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি বেশ ভালো। প্রথমবার তো কারোরই কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এবার আমরা গত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি। বড় বড় কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা পরিচালনা করছে। শ্রমিকদের যাতে একসঙ্গে দল বেঁধে কারখানায় না ঢুকতে হয়, সে জন্য তাঁদের কারখানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আমাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এ দেশের মানুষ বেশ উদ্যমী ও পরিশ্রমী। যদি ভালোভাবে তাঁদের একটু যত্ন ও দেখভাল করা হয়, তাহলে তাঁরা জীবন বাজি রেখেও কাজ করেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষের তুলনায় এ দেশের মানুষের মানবিক গুণ অনেক বেশি।

করোনার কারণে আমাদের একটি শিক্ষা হয়েছে, এখন যেনতেনভাবে আর ব্যবসা চালানো যাবে না। উৎপাদনকাজে এখন প্রযুক্তির ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়নে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে। তাই আমি মনে করি, আজকের তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চাহিদা ও পরিবর্তন মাথায় রেখে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছোট ছোট বাচ্চাকেও বিদ্যালয় পর্যায়ে কোডিং শেখানো হচ্ছে। সেখানে আমাদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। আমি মনে করি, করোনা-পরবর্তী বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিতে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২১
 
themebaishwardin3435666
error: © স্বত্ব ঈশ্বরদী নিউজ টুয়েন্টিফোর