ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

অনাবৃত

নিপা খাঁন
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
অনাবৃত। প্রতীকী ছবি

ন পৃথিবীতে নারীরা এমন প্রশ্ন করে,
ধর্ষণ থেকে বাঁচতে তারা আত্মহত্যা করতে পারবে কিনা
তখন মনেহয় বেঁচেই তো আছি।
ওহ্ ফিলিস্তিন!
যখন অগণিত নিষ্পাপ শিশুর আর্তনাদ
আকাশের পাঁজর ভেঙে চৌচির করে দেয়
তখন মনেহয় বেঁচেই তো আছি।
হায় সিরিয়া!
ইয়েমেনকে যখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে নিশ্চিহ্নতা
তখন মনেহয় অস্তিত্ব তো আছে, বেঁচে আছি।
যখন রোজ রাতে পরিবারগুলো
স্বজন হারানোর আতঙ্ক নিয়ে ঘুমোতে যায়
তখন মনেহয় কেউ থাক বা না থাক, বেঁচে তো আছি।
হায়রে ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর!
যখন পায়ের নীচে মাটির অভাবে
অনৈতিকতার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে লাখো রোহিঙ্গা,
কিছুতে মানুষই ভাবা যাচ্ছে না তাদের,
রোজ রোজ নতুন চিৎকারে জন্ম নিচ্ছে আরও নতুন মুখ,
‘মাটি’ ‘মাটি’ বলে চিৎকারে কান পাতা যাচ্ছে না
তখন মনেহয় মাটির ওপরই তো দাঁড়িয়ে আছি, কাজেই বেঁচে আছি।
যখন বাঁচার আকুতিতে ধর্ম পাল্টেও পুড়তে থাকে নিরীহ সাঁওতালীদের ঘর;
পোড়ে হিন্দু; খুন হয় মেধাবী আবরার;
হায়েনারা ছিন্নভিন্ন করে ছিঁড়ে খেতে ছাড়ে না আড়াই বছরের শিশুকেও,
দু’মুঠো ভাতের অপেক্ষায় নির্বাক নির্বাণ খোঁজে শত শত মুখ,
প্রশ্ন জাগে স্বদেশ আসলে কিসের ওপর বিজয় পেতে চায় এবার?
শতছিদ্র দুঃস্বপ্নের মতো রাত্রী পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে
আর সেখানেই বিমোহিত আলোর ঝলকানিতে বিজয়ের উল্লাস!
হায়রে প্রিয় স্বদেশ!
আমি তো তবে বেঁচেই আছি!
বেঁচে তো আছি কিন্তু কীভাবে?
লোভাতুর দৃষ্টির অগ্নিশিখায় দাউ দাউ জ্বলতে জ্বলতে
ক্রমে ক্ষয়ে যাচ্ছে প্রাণের আমাজন,
অগণিত আদিম প্রজাতির আর্ত চিৎকার,
দিশেহারা-ভাষাহারা অশ্রুতে ভারী হয়ে উঠেছে প্রকৃতি।
ওগো প্রাণের আমাজন!
যা দিয়েছো বৃথাই দিয়েছো এতোদিন।
আজ আমার নিঃশ্বাস কোথায়?
বেঁচে থাকতে থাকতে এবার আমি ক্লান্ত।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666