ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

অতিরিক্ত বিরতিতেই চলছে বিরতিহীন বেনাপোল এক্সপ্রেস

বেনাপোল (যশোর) থেকে
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৯
বেনাপোল এক্সপ্রেস

বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি তার গতি নিয়ে চলতে পারছে না। অন্য ট্রেনের মতোই গতানুগতিক নিয়মে চলাচল করছে বহুল প্রতীক্ষিত ট্রেনটি। অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং ও নতুন রেলপথ নির্মাণ না করে বিরতিহীন ট্রেন চালু করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বেনাপোল এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করেন। ৮৯৬ আসনের এই ট্রেন প্রতিদিন বেনাপোল স্টেশন থেকে ছেড়ে যশোর, ঈশ্বরদী জংশন ও ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য সাময়িক বিরতি দিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শেষ গন্তব্যে গিয়ে থামে। আধুনিক ট্রেনটি প্রতিদিন দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

আবার রাত সাড়ে ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে বেনাপোলের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। তবে নিয়ম অনুযায়ী ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ছেড়ে ঢাকায় যাওয়ার পর যশোর-ঈশ্বরদী ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে বিরতি দেয়ার যে সময় তা উন্নত ট্রেন লাইনের অভাবে সম্ভব হচ্ছে না। ট্রেনটিকে ঢাকা থেকে আসা-যাওয়ার সময় অন্তত ৭/৮ জায়গায় বিরতি দিতে হচ্ছে। চলতে হচ্ছে অন্যসব ট্রেনের গতির মতোই।

যশোর রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই অঞ্চলের রেললাইনের উন্নয়ন না করে তড়িঘড়ি করে ট্রেনটি চালু করা ঠিক হয়নি। বিরতিহীন ট্রেন চলাচলের যে মানের ট্রেন লাইন থাকার কথা সেটি এখানে নেই। সাধারণত এ ধরনের ট্রেন অন্যান্য ট্রেনের চেয়ে একটু গতি বেশি নিয়ে চলাচল করে। অথচ বিভিন্ন স্থানে ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেনটিকে স্বাভাবিক গতিতে চলতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও অন্যসব ট্রেন পারাপারের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করাতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভাবছে রেল কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীরা জানান, চালুর পর থেকে বিরতিহীনভাবে চলতে পারছে না ট্রেনটি। চলার পথে নিয়ম ভেঙে বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে দাঁড়ানোর কারণে ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না। এ নিয়ে যাত্রী ভোগান্তি চরমে।

এ বিষয়ে বেনাপোল রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান বলেন, ট্রেনটি ঠিকই তার নিয়মেই চলছে। তবে ট্রেনটি চলাচলের সময় অন্য ট্রেনকে সাইড দেয়ার জন্য কোথাও কোথাও দাঁড় করাতে হচ্ছে। বেনাপোল থেকে যশোর ও যশোর থেকে দর্শনা পর্যন্ত একটি লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। এ সময় অন্য সাইড দিয়ে যদি কোনো ট্রেন প্রবেশ করে সেটিকে ক্রসিং করতে কিছুটা সময় লাগে। এই অঞ্চলের রেল লাইনের উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে।

এদিকে, বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত বিরতিহীন এ ট্রেনটি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত অন্তত ৫০টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর অধিকাংশ স্থানে কোনো গেটম্যান নেই।

যশোর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ বলেন, বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত মোট ৫০টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ৪০টি বাকি ১০টি অবৈধ। বৈধ ৪০টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৩৬টিতে গেটম্যান আছে। বাকি চারটিতে গেটম্যান নেই। সব মিলিয়ে এই রুটে ১৪টি লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই।

শেয়ার করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৩ - ২০২০
 
themebaishwardin3435666